কলকাতা, ২ জুন (আইএএনএস): সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন দলনেত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর এই কর্মসূচিতে দলের বিধায়কদের উপস্থিতি কতটা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা এবং রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারী হকারদের উচ্ছেদের প্রতিবাদে মঙ্গলবার দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কলকাতার ওয়াই-চ্যানেলে দুই ঘণ্টার অবস্থান-বিক্ষোভে অংশ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কিন্তু সোমবার রাতে ঘটে যাওয়া একাধিক রাজনৈতিক ঘটনার জেরে এই কর্মসূচিতে তৃণমূল বিধায়কদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সোমবার দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এই বহিষ্কারের পর থেকেই দুই বিধায়ককে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে কলকাতার কাইড স্ট্রিটে অবস্থিত বিধায়ক হোস্টেলে সন্দীপন ও ঋতব্রতের সঙ্গে বৈঠক করেন তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক জাভেদ আহমেদ খান এবং শিউলি সাহা। এই বৈঠক রাত পর্যন্ত চলে বলে খবর।
উল্লেখ্য, জাভেদ আহমেদ খান এবং শিউলি সাহা দু’জনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। বৈঠকের বিষয়ে শিউলি সাহার মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আরও জল্পনা উসকে দিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা বিধায়ক হোস্টেলে আমাদের বরাদ্দ ঘর দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে সন্দীপন ও ঋতব্রতের সঙ্গে দেখা হয়। তারপর চা খেতে খেতে কিছুক্ষণ কথা হয়েছে। মনে রাখতে হবে, ওঁরা দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন, কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে নয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন এবং নিজেরা দলত্যাগ করেননি, তাই তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত দলত্যাগ বিরোধী আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে না। ফলে তাঁরা আগামী পাঁচ বছর বিধায়ক পদে বহাল থাকতে পারবেন।
দলীয় সূত্রের দাবি, জাভেদ আহমেদ খান ও শিউলি সাহার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ ও মালদহের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার একাধিক তৃণমূল বিধায়কও বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান-বিক্ষোভে তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতির হার দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা ৮০।



















