News Flash

  • Home
  • দেশ
  • তৃণমূল কি ‘শিবসেনা মুহূর্ত’-এর মুখে? দলের অন্দরে বাড়ছে অসন্তোষ, জল্পনা রাজনৈতিক মহলে
Image

তৃণমূল কি ‘শিবসেনা মুহূর্ত’-এর মুখে? দলের অন্দরে বাড়ছে অসন্তোষ, জল্পনা রাজনৈতিক মহলে

নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে কি তৃণমূল কংগ্রেস এখন ‘শিবসেনা মুহূর্ত’-এর মুখোমুখি? বিজেপির কাছে সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলের অন্দরে অসন্তোষ ও নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই জল্পনা ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২২-২৩ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)-র বিভাজনের কিছু মিল দেখা যাচ্ছে। ওই দুই ক্ষেত্রেই দল ভাঙার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নির্বাচন কমিশন এবং বিধানসভার স্পিকার মূল দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূলের অন্তত ৫০ জন বিধায়ক বর্তমানে দলের নেতৃত্বের উপর অসন্তুষ্ট। যদিও দল ভেঙে বেরিয়ে এসে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতার বাইরে থাকতে হলে বর্তমান বিধায়কদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ৫৩ জনকে একসঙ্গে বেরিয়ে আসতে হবে।

বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৭৮। সম্প্রতি দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, দুই উপ-বিরোধী দলনেতা এবং দলের চিফ হুইপ নির্বাচনের প্রস্তাবে জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ সামনে এনেছিলেন।

সূত্রের দাবি, দলের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিতি কমে যাওয়া, কোরাম না হওয়ায় বৈঠক বাতিল হওয়া এবং দলীয় চ্যানেলের বাইরে বিধায়কদের গোপন বৈঠকের খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যদিও এসব বৈঠকের কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই।

আইন অনুযায়ী, কোনও রাজনৈতিক দল ভেঙে গেলে কোন গোষ্ঠী ‘আসল’ দল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে, সেই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশন সাধারণত বিধায়ক বা সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ— উভয় বিষয় বিবেচনা করে।

১৯৬৮ সালের ‘ইলেকশন সিম্বলস (রিজার্ভেশন অ্যান্ড অ্যালটমেন্ট) অর্ডার’-এর আওতায় নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করে কোন গোষ্ঠী দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে। স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলে কমিশন প্রতীক স্থগিতও রাখতে পারে এবং উভয় গোষ্ঠীকে আলাদা প্রতীক দিতে পারে।

ইতিহাসে এর নজিরও রয়েছে। ১৯৬৯ সালে কংগ্রেস ভেঙে কংগ্রেস (ও) এবং কংগ্রেস (আই) গঠিত হয়েছিল। পরে নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীই মূল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যে আপাতত তৃণমূল থেকে দলত্যাগীদের দলে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। ফলে তৃণমূলের কোনও অসন্তুষ্ট গোষ্ঠী আলাদা পথে হাঁটতে চাইলে তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ার কথাই ভাবতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যার সমীকরণ, সংগঠনের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং জনসমর্থন— এই তিনটি বিষয়ই এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে ৭১ বছর বয়সি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল লড়াই ছাড়া কোনও পরিস্থিতিতেই পিছু হটবেন না বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

______ 

Releated Posts

‘পড়ুয়াদের জয়’: রাজস্থানের স্কুল সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত সিজেপি-র আশুতোষ রানকার

জয়পুর, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানজুড়ে জরাজীর্ণ স্কুলগুলির সংস্কার ও পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। সরকারের এই…

ByByNews Desk Sep 2, 2026

‘কমিশন’ ইস্যুতে কংগ্রেসকে নিশানা বিজয়েন্দ্রের, দ্বিতীয় দিনে ‘বল্লারি চলো’ পদযাত্রা

রায়চুর, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির ‘বল্লারি চলো’ প্রতিবাদ পদযাত্রা বুধবার দ্বিতীয় দিনে পড়েছে। এই উপলক্ষে…

ByByNews Desk Sep 2, 2026

জম্মু-কাশ্মীরে এনসি-বিজেপি মুখোমুখি, পরস্পরের দফতর ঘেরাও ঘিরে উত্তেজনা

শ্রীনগর, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): শাসক ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এবং বিরোধী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র পরস্পরের দফতর ‘ঘেরাও’ কর্মসূচি…

ByByNews Desk Sep 2, 2026

৮ শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি করতে পারে ভারত: বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা

অ্যাশভিল, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের অর্থনীতির বর্তমান ৭-৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ৮ শতাংশের বেশি…

ByByNews Desk Sep 2, 2026
Scroll to Top