মুম্বই, ২ জুন (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার মুম্বইয়ের পাশাপাশি গুজরাটের সুরাট, আঙ্কলেশ্বর এবং রাজকোট-এ মোট ২০টি স্থানে তল্লাশি চালানো হয়।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, সালিম ইসমাইল দোলা এবং তাঁর সহযোগীদের পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার ও অর্থপাচার চক্রের তদন্তের অংশ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্ত চলছে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায়।
তল্লাশি চালানো হয়েছে প্রিকার্সর কেমিক্যাল সরবরাহকারী, শিল্প রাসায়নিক ব্যবসায়ী, মেফেড্রোন (এমডি) নামে পরিচিত সিন্থেটিক মাদক প্রস্তুত ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন পাচারকারী, হাওলা অপারেটর এবং মাদক ব্যবসার অর্থে কেনা বেনামি সম্পত্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিভিন্ন ঠিকানায়।
চলতি বছরের মে মাসে তুরস্ক থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয় সালিম দোলাকে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পলাতক গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিম-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। দাউদ বর্তমানে পাকিস্তানে আত্মগোপন করে রয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ধারণা।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে, দোলার নেতৃত্বে একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক চক্র প্রিকার্সর রাসায়নিক সংগ্রহ করে গোপন কারখানায় মেফেড্রোন তৈরি করত। পরে সেই মাদক বিভিন্ন রাজ্যে পাচার করা হতো এবং অবৈধ পথে বিদেশেও পাঠানো হতো।
তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন যে, অবৈধ আয়ের উৎস গোপন করতে হাওলা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হতো। মাদক ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ দেশ-বিদেশে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ইডি সূত্রে খবর, এই চক্রের আর্থিক ও কার্যকরী নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ চিত্র উদ্ঘাটনের জন্যই বর্তমান তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তের আওতায় রয়েছে রাসায়নিক উৎপাদনকারী সংস্থা, মধ্যস্থতাকারী, আর্থিক লেনদেন পরিচালনাকারী, হিসাবরক্ষক, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং হাওলা অপারেটরদের ভূমিকাও।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দাউদ-যোগযুক্ত মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে।



















