আগরতলা, ২ জুন: স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি) দ্বারা উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং সরাসরি বিপণন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোমবার উনকোটি জেলা মিশন ম্যানেজমেন্ট ইউনিট (ডিএমএমইউ), ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন (টিআরএলএম)-এর উদ্যোগে এক ক্রেতা-বিক্রেতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। জেলা শাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা উদ্যোক্তা এবং সম্ভাব্য ক্রেতারা অংশ নেন।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে উনকোটি জেলার জেলাশাসক মেঘা জৈন বলেন, প্রকৃত নারী ক্ষমতায়নের জন্য অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তার জন্য উৎপাদিত পণ্যের যথাযথ বাজার সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকে ৬০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা তাঁদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন করেন। এসব পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সহযোগিতা ও সরাসরি ক্রয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
জেলাশাসক স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের এসএইচজি-র উৎপাদিত পণ্য ক্রয় ও বিপণনে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্থানীয় দোকান ও বাজারে এসব পণ্যের বিক্রির সুযোগ বাড়ানো গেলে গ্রামীণ মহিলাদের আয়ের পথ আরও সুগম হবে।
প্রদর্শিত পণ্যের মধ্যে ছিল সাবান, গ্রিন টি, স্যানিটারি প্যাড, খেলনা, পোশাক, কচুরিপানা দিয়ে তৈরি ব্যাগ, বাঁশের কুঁড়ি, আনারস, বেবি কর্ন এবং বিভিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী।
জেলাশাসক জানান, এসএইচজি পণ্যের বিপণন আরও কার্যকর করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অ্যাগ্রিগেশন সেন্টার ও বিক্রয় কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি কুমারঘাটে চালু হওয়া ‘সম্পন্ন’ ক্যাফে ও মার্কেটিং সেন্টারের কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উৎপাদিত তাজা শাকসবজি বিক্রি করা হচ্ছে।
অধিকারিকরা জানান, খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে পণ্যের বিস্তারিত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ নম্বর আপলোড করা হবে, যাতে ক্রেতা ও উৎপাদকদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়।
বৈঠকে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, সরাসরি বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি রূপরেখাও প্রস্তুত করা হয়। প্রশাসনের মতে, এই উদ্যোগ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



















