আগরতলা, ২ জুন: গোমতী জেলা পরিবহন দপ্তরে ব্যাপক অনিয়ম এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, দপ্তরের অভ্যন্তরে ও বাইরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী দালালচক্র সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করছে এবং সরকারি পরিষেবা পেতে বাধ্য করছে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিবহন দপ্তরের আশপাশে প্রায় ৩০ জন বেসরকারি দালাল নিয়মিতভাবে অবস্থান করে। গাড়ির মালিক ও চালকদের নথিপত্র সংক্রান্ত কাজ এসব দালালের মাধ্যমে করাতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। কেউ সরাসরি অফিসে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করলে নানা অজুহাতে তার ফাইল আটকে রাখা বা দীর্ঘসূত্রিতা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধেও এই দালালচক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আগরতলা, শান্তিরবাজার এবং উদয়পুর-তুলামুড়া এলাকার অন্তত তিনজন কর্মী মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় কাজ করছেন এবং অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন নথিপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি করে দিচ্ছেন। সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, সরকার নির্ধারিত নতুন অফিস সময়সূচি কার্যকর হওয়ার পরও কয়েকজন কর্মচারী তা মেনে চলছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়া দপ্তরের নাইট গার্ডের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, তিনি নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন না করায় অফিস চত্বরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন কর্মীদের একাংশের মতে, দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের কিছু কর্মচারীর মধ্যে গড়ে ওঠা একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে। ফলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে। স্থানীয় চালক, গাড়ির মালিক ও সাধারণ মানুষ গোমতী জেলার জেলাশাসক এবং রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পরিবহন দপ্তরে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত পরিষেবা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।


















