নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এখন বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের (ইনফ্লুয়েন্সার) একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে ভারতবিরোধী প্রচার চালানোর চেষ্টা করছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র। এই কৌশলের মূল অনুপ্রেরণা হিসেবে উঠে এসেছে শাহজাদ ভাট্টি-র নাম, যিনি একসময় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ভাট্টিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত ছিল আইএসআই-এর একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ। তাঁর বিশাল অনলাইন অনুসারী গোষ্ঠী এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার ও জনমত প্রভাবিত করার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁকে নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হয়।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, ভাট্টি শুধু জম্মু-কাশ্মীর, দিল্লি এবং উত্তর ভারতের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য লোক সংগ্রহেই জড়িত ছিলেন না, পাঞ্জাবে খালিস্তানপন্থী আন্দোলনের জন্যও নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
সূত্রের মতে, ভাট্টির মাধ্যমে পরিচালিত এই মডেলকে আইএসআই সফল বলে মনে করছে এবং এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যাঁদের মাধ্যমে ভারতীয় যুবকদের প্রভাবিত করা সম্ভব।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পাকিস্তান-সমর্থিত সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালায়। সেই অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার মধ্যে জ্যোতি মালহোত্রা-র নামও উঠে আসে।
একাধিক গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আইএসআই-এর লক্ষ্য শুধু লোক নিয়োগ নয়, বরং অনলাইন মাধ্যমে নির্দিষ্ট বার্তা ও বয়ান ছড়িয়ে দেওয়া। বিশেষ করে ভারত সরকার, তার নীতি এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক প্রচার চালানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সূত্রের আরও দাবি, পাকিস্তানের ঝেলম, ইসলামাবাদ এবং লাহোর-এ এই ধরনের কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য বিশেষ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে করাচি-তে অবস্থিত তথাকথিত ‘ইউনিট ৪১২’কে প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য, এই নেটওয়ার্কের সদস্যরা মূলত এমন সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল খুঁজে বের করেন, যেগুলি পাকিস্তানপন্থী বা ভারতবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে। পরে ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয় এবং অর্থ বা জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির প্রলোভন দেখিয়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শাহজাদ ভাট্টি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী, সমাজকর্মী ও অনলাইন ভাষ্যকার হিসেবে পরিচয় দিলেও তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক অভিযোগ ছিল। ২০১৫ সালে তিনি দুবাইয়ে চলে যান এবং পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সেখান থেকেই তাঁর সঙ্গে আইএসআই-এর যোগাযোগ তৈরি হয় বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
ভাট্টি ‘৩৩৩’ নামে একটি অনলাইন চ্যানেল চালু করেন, যেখানে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। তবে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযোগ, এই প্ল্যাটফর্মগুলিকে ভারতবিরোধী প্রচার এবং বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনের জন্য সমর্থক সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
তবে এই সমস্ত অভিযোগের স্বাধীন ও সরকারি যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



















