কলকাতা, ১ জুন (আইএএনএস): দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ই-মেল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দুই বিধায়ককে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার রথিন্দ্র বসু-কেও অবহিত করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগে স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধানসভা সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিষয়টি তাঁর নজরে আসার পরই তিনি পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তদন্তে সিআইডিকে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। তাঁর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলীয় নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা, দলবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়া এবং দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার কারণেই তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের পর সন্দীপন সাহা বলেন, “দল অনৈতিক কাজকে সমর্থন করছে, আর যারা নৈতিকতার পথে চলেছে তাদের বহিষ্কার করছে। আমরা জানতাম না যে উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষর করাকে কোনও প্রস্তাবে স্বাক্ষর হিসেবে ব্যবহার করা হবে।”
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার ফলে বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী দুই বিধায়ক এখন নির্দল সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। ফলে রাজ্যসভা নির্বাচন বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে তাঁরা তৃণমূলের হুইপ মানতে বাধ্য থাকবেন না। একইসঙ্গে দলও তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের দাবি করতে পারবে না।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। ২০১৪ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) তাঁকে রাজ্যসভার সদস্য করেছিল। কিন্তু ২০১৭ সালে বিভিন্ন অভিযোগে দল তাঁকে বহিষ্কার করে। পরে তিনি নির্দল সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় ছিলেন। পরবর্তীতে মমতা ব্যানার্জী এবং অভিষেক ব্যানার্জী তাঁকে তৃণমূলে নিয়ে আসেন এবং চলতি বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেন। তিনি সেই নির্বাচনে জয়ী হন।
এদিকে বহিষ্কারের পর তৃণমূলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুনাল ঘোষ ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার এক মাসও না পেরোতেই দলের মধ্যে বিদ্রোহ ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন।
স্বাক্ষর জালিয়াতি বিতর্কের সূত্রপাত হয় বিরোধী দলনেতা, উপ-দলনেতা এবং চিফ হুইপ নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ৬ মে কালীঘাটে তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
পরে দল ঘোষণা করে যে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়—অসীমা পাত্র উপ-দলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিম চিফ হুইপ হবেন। তবে এই সংক্রান্ত চিঠি বিধানসভা গ্রহণ করেনি।
পরে ১৯ মে আরেকটি বৈঠকে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগ ওঠে, ওই স্বাক্ষরকে ৬ মের বৈঠকের কার্যবিবরণীর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।
তদন্তে নেমে সিআইডি একাধিক বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এর মধ্যে ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, তাপস মাইতি এবং বাহারুল ইসলাম।
বাহারুল ইসলাম দাবি করেন, ৬ মে তিনি কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। অথচ তাঁর নামে একটি স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে, যা তাঁর নয় বলে তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন।
এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল সিআইডি। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়ে সময় চেয়েছেন।
______



















