কলকাতা, ১ জুন (আইএএনএস) : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ‘জিরো-লাইন’ গ্রাম স্থানান্তরের উদ্যোগে নতুন করে জোর দিতে চলেছে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। দীর্ঘদিন ধরেই এই বিষয়টি নিয়ে বিএসএফ কেন্দ্রের কাছে সওয়াল করে আসছে। বাহিনীর শীর্ষকর্তাদের মতে, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর এই প্রক্রিয়া আরও গতি পেতে পারে।
বিএসএফের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমএইচএ) বহু বছর ধরেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের কাজ হলো সীমান্ত থেকে কিছুটা দূরে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করে তা অধিগ্রহণ করা। সীমান্ত সংলগ্ন কৃষিজমি আগের মতোই রাখা যেতে পারে এবং চাষিরা দিনের বেলায় সেখানে কাজ করতে পারবেন।
‘জিরো-লাইন’ গ্রাম বলতে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অবস্থিত গ্রামগুলিকে বোঝায়। এই ধরনের বসতি সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং নজরদারির কাজে বড় বাধা সৃষ্টি করে। এমনকি কিছু ভারতীয় গ্রাম সীমান্ত বেড়ার বাইরেও অবস্থান করছে।
বিএসএফের ওই আধিকারিকের দাবি, এই গ্রামগুলি কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। রাতে সীমান্তের গেট বন্ধ হয়ে গেলে জরুরি পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গ্রামবাসীরাই জানিয়েছেন, তাঁরা বাংলাদেশি অপরাধীদের দৌরাত্ম্যের মুখে অসহায়। তাঁরা স্থানান্তরে রাজি থাকলেও প্রশাসনের তরফে তেমন কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ভারত ও বাংলাদেশ-এর মধ্যে মোট ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ২,২১৬.৭ কিলোমিটার সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে প্রায় ৩৬০টি জিরো-লাইন গ্রাম রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের বসবাস। এর অধিকাংশই মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহার জেলায় অবস্থিত।
বাহিনীর মতে, এসব গ্রামের উপস্থিতির কারণে বহু এলাকায় সীমান্ত বেড়া নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে। অপরাধীরা এই গ্রামগুলিকে ব্যবহার করছে চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার এবং অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য।
এছাড়া সীমান্তবর্তী এই বসতিগুলিতে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করতে হয়, যাতে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধ যাতায়াত রোধ করা যায়। বিএসএফের কর্মকর্তারা আশাবাদী যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে এবং জিরো-লাইন গ্রামগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে।



















