নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট সাইবার থানার দল। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিট, সিম কার্ড এবং এটিএম কার্ড সরবরাহকারী একটি সংগঠিত চক্রের পর্দাফাঁস করে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং হিমাচল প্রদেশ থেকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা নিজেদের Paytm কর্মী পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। কেওয়াইসি আপডেট বা Paytm সেটিংস ঠিক করার অজুহাতে তারা মোবাইল ফোনে প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রতারণা চালাত।
ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ প্যাটেল নগরের এক চা বিক্রেতার অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি তাঁর দোকানে এসে নিজেকে পেটিএম কর্মী পরিচয় দিয়ে মোবাইলের কেওয়াইসি আপডেট করার প্রস্তাব দেয়। সেই সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ প্রযুক্তিগত তদন্ত ও লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে। এরপর ১৫ মে সাইবার সেন্ট্রাল থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৩১৮(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে এসআই রবীন্দর কুমার, এইচসি দীপক এবং এইচসি জয় কিশনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। তদন্তে প্রযুক্তিগত নজরদারি, ব্যাঙ্ক লেনদেন বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা, ডিজিটাল প্রোফাইলিং এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র অনুসরণ করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে যে প্রতারণার অর্থ একটি পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছিল, যা সাইবার জালিয়াতির অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছিল। পরবর্তীতে কেওয়াইসি নথি, লেনদেনের তথ্য ও মোবাইল নম্বর বিশ্লেষণ করে পঞ্চকুলার বাসিন্দা বিশেশ সিংহকে চিহ্নিত করা হয়।
পুলিশ পরে জানতে পারে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, সিম কার্ড ও এটিএম কিট সংগ্রহ এবং সরবরাহের জন্য একটি সুসংগঠিত আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক কাজ করছিল। প্রযুক্তিগত তথ্য ও স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পঞ্চকুলা, জিরাকপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে ১৯ মে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ধৃতদের নাম বিশেশ সিংহ (২২), সচিন মৌর্য (২২) এবং আশিস শর্মা (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, বিশেশ সিংহ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিট ও সিম কার্ড সরবরাহ করত, সচিন মৌর্য বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট কিট সংগ্রহ ও পাচারের কাজে যুক্ত ছিল এবং আশিস শর্মা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কিট বিভিন্ন প্রতারক চক্রের কাছে পৌঁছে দিত।
জেরায় অভিযুক্তরা জানায়, তারা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, এটিএম কার্ড, সিম কার্ড এবং ব্যাঙ্কিং সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় ও সরবরাহের বিনিময়ে কমিশন পেত। পরে এসব তথ্য ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারণার অর্থ স্থানান্তর ও উত্তোলন করা হতো।
তদন্তে আরও জানা গেছে, অভিযুক্তরা যোগাযোগ ও সমন্বয়ের জন্য ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ-এর মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করত। বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোনে একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, কমিশন বণ্টনের তথ্য, সন্দেহভাজন সহযোগীদের যোগাযোগ এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য মিলেছে।
পুলিশ চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে, যা সাইবার প্রতারণার কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতো বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক আন্তঃরাজ্য সাইবার প্রতারণা মামলার যোগ থাকতে পারে। অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজ, প্রতারিত অর্থের সন্ধান এবং আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।



















