নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। দলের দাবি, এই রায়ে কংগ্রেসের ‘দ্বিচারিতা’ এবং ‘আসল চরিত্র’ প্রকাশ্যে এসেছে।
বুধবার দলীয় সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র এবং সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় কংগ্রেসের “সম্পূর্ণ পরাজয়”। তাঁর দাবি, নৈতিক, বিচারিক এবং সাংবিধানিক— সব দিক থেকেই কংগ্রেস ব্যর্থ হয়েছে।
ত্রিবেদী বলেন, “বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করেছিল কংগ্রেস। সেটাই ছিল তাদের নৈতিক পরাজয়। আর আজ সুপ্রিম কোর্ট তাদের আবেদন খারিজ করেছে। ফলে এটি নৈতিক, বিচারিক ও সাংবিধানিক— সব দিক থেকেই কংগ্রেসের সম্পূর্ণ হার।”
তিনি দাবি করেন, শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে এসআইআর আইনসম্মত এবং তা জনগণের প্রতিনিধিত্ব আইন (আরপিএ)-এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। পাশাপাশি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেও এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও ‘দ্বিচারিতা’-র অভিযোগ তুলে বিজেপি সাংসদ বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে বিরোধী দল।
এরপর আরও কড়া ভাষায় কংগ্রেসকে আক্রমণ করে ত্রিবেদী বলেন, “আজ তাদের মতাদর্শ ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার আমেরিকার সঙ্গে, পরিবার ইতালির সঙ্গে আর ভোট বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত।”
তিনি আরও বলেন, “কংগ্রেস এবং বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর উচিত আত্মসমালোচনা করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে অপমান বা হেয় করা থেকে বিরত থাকা।”
সুধাংশু ত্রিবেদী কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় থাকলেও কংগ্রেস নেতৃত্ব মাটিতে নেমে কাজ করেনি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে রাহুল গান্ধী কতগুলি জনসভা করেছেন? বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং শীর্ষ নেতারা লাগাতার প্রচার চালিয়েছেন, কিন্তু কংগ্রেস নেতাদের মাঠে দেখা যায়নি।”
বিহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা এমন জোটসঙ্গীদের নিয়ে এসেছেন, যারা বিহারের পরিযায়ী শ্রমিকদের অপমান করেছে এবং তাঁদের ডিএনএ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আজ তাদের আসল চেহারা সামনে এসেছে।”



















