হামিরপুর, ৭ মে (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের হামিরপুর জেলায় যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও ছয় জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক মহিলা ও একাধিক শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বুধবার কুরারা থানার অন্তর্গত কুতুপুর পাতিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘাটমপুর থেকে যমুনা নদী পারাপারের সময় নয় জন যাত্রী নিয়ে যাওয়া নৌকাটি আচমকাই নদীতে ডুবে যায়।
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথমে ব্রজরানি নামে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। পরে ১৪ বছরের কিশোরী অর্চনার দেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে।
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং বন্যা মোকাবিলা বাহিনী বুধবার রাত থেকেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবে প্রবল বৃষ্টির কারণে নদীতে তল্লাশির কাজে সমস্যা হচ্ছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী চার শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং ফ্লাড পিএসি-র ডুবুরিরা যৌথভাবে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
জেলার জেলাশাসক অভিষেক গোয়েল জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় গ্রামবাসী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।
তিনি বলেন, “নয় জনকে নিয়ে যাওয়া নৌকাটি যমুনায় ডুবে যায়। তিন জনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও ছয় জন নিখোঁজ। উদ্ধারকাজে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং বন্যা মোকাবিলা বাহিনীকে নামানো হয়েছে।”
গোয়েল আরও জানান, নৌকার মাঝির দাবি, নৌকাটি উল্টে যায়নি, বরং নিজে থেকেই জলে তলিয়ে যায়। যারা সাঁতার জানতেন তারা প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন।
এদিকে বিজেপি বিধায়ক মনোজ প্রজাপতি জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও এক মহিলা রয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে। তিনটি এসডিআরএফ দল মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো ঘটনার রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।”
বাঁদা রেঞ্জের ডিআইজি রাজেশ যশ বলেন, “নৌকায় মোট নয় জন ছিলেন। তিন জন সাঁতরে প্রাণে বাঁচেন। বাকিদের খোঁজে জোরকদমে অভিযান চলছে।”
উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল জবলপুর জেলার বারগি বাঁধ এলাকায় একটি ক্রুজ নৌকা ডুবে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া এপ্রিল মাসেই উত্তরপ্রদেশের মথুরা-তেও আরেকটি নৌকাডুবির ঘটনায় ১৫ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।



















