চিক্কামাগালুরু (কর্নাটক), ৪ মে: শৃঙ্গেরি বিধানসভা কেন্দ্রে পোস্টাল ব্যালট পুনর্গণনাকে ঘিরে বিতর্কের জেরে জয়ী বিজেপি প্রার্থী ডি.এন. জীবরাজসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে কর্নাটক পুলিশ। সোমবার চিক্কামাগালুরু টাউন থানায় এই মামলা নথিভুক্ত হয়।
অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির সন্দেহ রয়েছে। কর্নাটক হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট পুনরায় যাচাই ও গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩ মে আইনজীবী সুধীর কুমার মুরোলি, যিনি পোস্টাল ব্যালট গণনার সময় এজেন্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, ব্যালট সংরক্ষণের স্ট্রংরুম সঠিকভাবে সিল করা ছিল না এবং ব্যালট রাখা ট্রাঙ্ক খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। ট্রাঙ্কের সিল ভাঙা ও তালা কাটা ছিল বলেও অভিযোগ, যা কারচুপির আশঙ্কা বাড়ায়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন নির্বাচন আধিকারিক বেদমূর্তি, বিজেপি প্রার্থী ডি.এন. জীবরাজ এবং তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার রমেশ কুমার। বিষয়টির তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে অভিযোগ খারিজ করে জীবরাজ বলেন, “হারের পর কারচুপির অভিযোগ তোলা ঠিক নয়। আগে জিতলে তা সাংবিধানিক জয় বলা হয়, আর আমরা জিতলে সেটাকে কারচুপি বলা হচ্ছে। আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে মামলা করা হয়েছে, আমরা সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করব।”
উল্লেখ্য, পুনর্গণনার পর জীবরাজ মাত্র ৫২ ভোটে জয়ী ঘোষণা হয়েছেন। এর ফলে তিনি চতুর্থবারের জন্য বিধায়ক নির্বাচিত হলেন। যদিও ২০২৩ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী টি.ডি. রাজেগৌড়া ২০১ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
পুনর্গণনায় দেখা যায়, আগে রাজেগৌড়ার প্রাপ্ত ৫৬৯টি পোস্টাল ভোটের মধ্যে ৩১৮টি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, যার ফলে ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, এটি একটি বড়সড় ষড়যন্ত্র এবং গণতন্ত্রের জন্য কলঙ্কজনক। অন্যদিকে বিজেপি দাবি করেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই পুনর্গণনা হয়েছে এবং তাদের জয় বৈধ।
ফলাফল ঘোষণার পর এন.আর. পুরা, শৃঙ্গেরি ও কপ্পা এলাকায় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উদযাপন দেখা যায়।



















