চণ্ডীগড়, ৪ মে: পাঞ্জাবের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী তারন তারণ জেলায় মাদকচক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গত তিন মাসে ‘গ্যাংস্টারান তে ভার’ অভিযানের আওতায় ৪৯০টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ৬৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে মোট ৪৭.৫২৭ কেজি হেরোইন।
জেলার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) সুরেন্দ্র লাম্বা জানান, পাকিস্তান থেকে মাদক ও অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে গ্যাংস্টার চক্রগুলি তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল। সেই নেটওয়ার্ককে ভাঙতেই লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, গত এক বছরে প্রায় ৬৫ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই গত তিন মাসে। এই সম্পত্তিগুলি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে মাদক পাচার ও গ্যাংস্টারদের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
পুলিশের দাবি, প্রায় ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে ড্রোনের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র পাচার হচ্ছে। ছোট ড্রোনে ০.৫ থেকে ১২ কেজি এবং বড় ড্রোনে একবারে ২৫ কেজি পর্যন্ত মাল বহন করা সম্ভব, যা ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে।
২০২৪ সালে এই জেলায় ৩১৩টি মামলা দায়ের হয়েছিল, যেখানে ৩৫৮ জন গ্রেফতার হয় এবং ১১৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়। গত বছর ১,৩৩৪টি মামলায় ১,৬৬২ জন গ্রেফতার হয় এবং ২৪৪ কেজির বেশি হেরোইন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের মতে, “ড্রোন-ড্রাগস-গান” চক্র বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চক্রের মাধ্যমে মাদক ও অস্ত্র সরবরাহ করে অপরাধচক্রগুলি তাদের আর্থিক শক্তি বাড়াচ্ছে এবং যুব সমাজকে টার্গেট করছে।
‘যুদ্ধ নেশিয়ান বিরুধ’ ও ‘গ্যাংস্টারান তে ভার’ অভিযানের আওতায় এখনও পর্যন্ত ১,৭৩৬টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ২,২০০-র বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সম্প্রতি ‘অপারেশন প্রহার’-এ ছয় দিনের মধ্যে ২৩৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন ঘোষিত অপরাধীও রয়েছে।
এই অভিযানে ৩.৫ কেজি হেরোইন উদ্ধার হয়েছে এবং ৫০টি বিশেষ পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।



















