তেলিয়ামুড়া, ৪ এপ্রিল: সোমবার ফলাফল ঘোষণার দিনটা যেন শুধুই সংখ্যার খেলা নয়, ছিল রাজনৈতিক বারুদের গন্ধে ভরা এক উত্তপ্ত দিন। সকাল গড়াতেই দেশের একাধিক রাজ্যে গণনার ট্রেন্ড স্পষ্ট হতে শুরু করে, আর তার সঙ্গেই রাজনৈতিক মঞ্চে শুরু হয় উচ্ছ্বাস, উৎকণ্ঠা আর কটাক্ষের পাল্টাপাল্টি লড়াই।
পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এদিনের ফলাফল যেন এক অন্য গল্প লিখল। বহুদিনের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গেল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধুই ফলাফল নয়—এ যেন রাজ্যের রাজনীতির মেরুদণ্ডে ধাক্কা দেওয়া এক বড় সংকেত।
এই জয়ের রেশ গিয়ে পড়ে ত্রিপুরার ২৮ তেলিয়ামুড়া মণ্ডলেও। সেখানে যেন ছোটখাটো ‘গেরুয়া কার্নিভাল’! বাজির শব্দে মুখরিত মণ্ডল কার্যালয়, গেরুয়া আবিরে রঙিন কর্মী-সমর্থকরা, আর হাতে ঝালমুড়ি—সব মিলিয়ে এক অন্যরকম রাজনৈতিক উল্লাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেই বিখ্যাত মন্তব্য—“ঝালমুড়ি আমি খেলাম, ঝাল লাগলো তৃণমূলের”—এদিন যেন বাস্তবের মাটিতেই প্রতিধ্বনি তুলল। কর্মীরা সেই বক্তব্য’কে হাতিয়ার করেই ঝালমুড়ি খেতে খেতে উদযাপনে মাতলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিধায়িকা তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় সরাসরি আক্রমণ শানান তৃণমূলের বিরুদ্ধে। তাঁর কথায়, “দীর্ঘদিনের ক্ষোভ আজ বিস্ফোরিত হয়েছে ব্যালট বাক্সে।
মানুষ পরিবর্তন চাইছিল, আর সেই বার্তাই আজ স্পষ্ট।” পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর নেতৃত্বের প্রশংসা করে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’কে কটাক্ষ করতে একটুও পিছপা হননি।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আসামেও বিজেপির সাফল্যকে তিনি সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের সূচনা করতে পারে। সব মিলিয়ে, আজকের দিনটা যেন স্পষ্ট করে দিল—রাজনীতির ময়দানে ‘ঝাল’ বাড়ছে, আর সেই ঝালেই অনেক পুরনো সমীকরণ গলতে শুরু করেছে!



















