কলকাতা, ২৯ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময় যত গড়াচ্ছে, ততই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অশান্তি ও সংঘর্ষের খবর সামনে আসছে। ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের মধ্যেই বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে উঠেছে।
ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের সাইহাটি এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়, যখন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা ওই কেন্দ্রের বর্তমান বিধায়ক ও অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট-এর প্রার্থী মদন নওশাদ সিদ্দিকী-কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে থাকেন শাসকদলের সমর্থকরা। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সিদ্দিকীর অভিযোগ, সকাল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোট চললেও পরে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে বসন্তীতে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রার্থী বিকাশ সরদার-এর উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর আগ্নেয়াস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি বুথ নম্বর ৭৬-এর কাছে ঘটে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেনি। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়।
উত্তর ২৪ পরগনার সাসনে শাসকদলের কর্মীরা ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় গ্রামবাসী ও এআইএসএফ সমর্থকদের তরফে পাল্টা প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।
হুগলির খানাকুলে রাজহাটি-১ পঞ্চায়েতের রামচন্দ্রপুরে বুথ নম্বর ১৪৭-এর সামনে এআইএসএফ ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এআইএসএফ-এর অভিযোগ, ভুয়ো নথি ব্যবহার করে শাসকদল তাদের এজেন্ট বসিয়েছে এবং তাদের প্রকৃত এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া হাওড়ার বালি বিধানসভা কেন্দ্রের লিলুয়ার ডন বসকো সোহনলাল বিদ্যালয়ে ইভিএম বিকল হয়ে পড়ায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। এতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের পোলিং এজেন্টরা আহত হন। ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এলাকায় বিশাল পুলিশবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
নদিয়ার করিমপুরে এক পুলিশ আধিকারিককে ভোটারদের তৃণমূলের পক্ষে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সমগ্র পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন।



















