বিজয়ওয়াড়া, ২৪ এপ্রিল (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশের বহুল আলোচিত মদ কেলেঙ্কারির তদন্তে গতি আনতে ইডি শুক্রবার একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। হায়দরাবাদ, বিজয়ওয়াড়া ও তিরুপতিতে মোট পাঁচ অভিযুক্তের বাড়ি, অফিসসহ বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়।
তল্লাশি চালানো হয়েছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি-র বর্ণনা প্রক্তন বিধায়ক চেভিরেড্ডি ভাস্কর রেড্ডি, মূল অভিযুক্ত কেশিরেড্ডি রাজশেখর রেড্ডি, ভারতী সিমেস-এর ডিরেক্টর বালাজি গোবিন্দপ্পা, কৃষ্ণ মোহন ও ধনেঞ্জয় রেডডির বিভিন্ন প্রাঙ্গণে।
ইডি সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-এর রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু হয়েছে। এর আগে ৯ মার্চ কৃষ্ণ মোহন ও ধনঞ্জয় রেড্ডিসহ চার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল ইডি। কৃষ্ণ মোহন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন মোহন রেড্ডি-র বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওএসডি) ছিলেন, আর ধনঞ্জয় রেড্ডি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের সচিব হিসেবে কাজ করেছেন।
ইডি ইতিমধ্যেই মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২-এর আওতায় প্রায় ৪৪১.৬৩ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কেসিরেড্ডি রাজশেখর রেড্ডি, তাঁর পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সম্পদ।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই কেলেঙ্কারিতে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের কোষাগারে। তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন ডিস্টিলারি থেকে নগদ, সোনা ও অন্যান্য উপায়ে প্রায় ১,০৪৮.৪৫ কোটি টাকার ‘কিকব্যাক’ সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই অর্থ হায়দরাবাদের একাধিক জায়গায় জমা রাখা হতো এবং পরে তা বিভিন্নভাবে বণ্টন বা সরিয়ে ফেলা হত।
ইডি আরও জানিয়েছে, এই অবৈধ আয় মূলত স্থাবর সম্পত্তি কেনা ও ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের অনেকেই এই অর্থ গোপন বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।



















