নয়াদিল্লি, ১৪ এপ্রিল (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে ফোনালাপে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ফোনালাপের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে জানান, আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে ফোন পেয়েছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমরা পর্যালোচনা করেছি। সব ক্ষেত্রে আমাদের সমগ্র বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও লেখেন, আমরা পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেছি এবং হরমুজ প্রণালীকে খোলা ও সুরক্ষিত রাখার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছি।
ভারত বরাবরই চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসানের জন্য উত্তেজনা প্রশমিত করা, সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে সওয়াল করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে নয়াদিল্লি আশা প্রকাশ করেছে, এর মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তির পথ সুগম হবে।
কেন্দ্রের মতে, এই সংঘাত ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের ব্যাপক দুর্ভোগের কারণ হয়েছে এবং বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটিয়েছে। একই সঙ্গে ভারত জোর দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-পরিবহন ও বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন তার দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক কৌশলের কেন্দ্রে ভারতকে রাখছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে কাজ করছে এবং এই সম্পর্ককে একবিংশ শতাব্দীর নির্ধারক কৌশলগত অংশীদারিত্বে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদিকে “একজন সত্যিকারের বন্ধু” হিসেবে বিবেচনা করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করছে।
রাষ্ট্রদূতের মতে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই ভারত-মার্কিন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। বর্তমানে চলমান ‘মেজর ডিফেন্স পার্টনারশিপ’ এবং নতুন ১০ বছরের কাঠামোর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উৎপাদন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যৌথ কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।


















