News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • যুদ্ধ শেষ করতে তিন শর্ত ইরানের — অধিকার স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ হামলার বিরুদ্ধে গ্যারান্টি
Image

যুদ্ধ শেষ করতে তিন শর্ত ইরানের — অধিকার স্বীকৃতি, ক্ষতিপূরণ ও ভবিষ্যৎ হামলার বিরুদ্ধে গ্যারান্টি

নয়াদিল্লি, ১২ মার্চ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলা সংঘাত বন্ধ করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত সামনে রেখেছে ইরান। ইরানের দাবি, তাদের অধিকার স্বীকৃতি দিতে হবে, যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর হামলা না হওয়ার আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি দিতে হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান শান্তির পক্ষে থাকলেও ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ তাদের দাবিগুলি মেনে নিলেই কেবল এই যুদ্ধের অবসান সম্ভব।

রাশিয়া ও পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করার পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, “এই যুদ্ধের একমাত্র সমাধান হল — ইরানের বৈধ অধিকার স্বীকার করা, যুদ্ধের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আগ্রাসন না হওয়ার দৃঢ় আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি।”

তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পরই এই সংঘাত শুরু হয়েছে। তাই নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা ছাড়া তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কেনটাকিতে এক জনসভায় তিনি বলেন, “আমরা এখনই থামতে চাই না। কাজটা শেষ করতেই হবে।”

তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কিন বাহিনীর আক্রমণের জন্য খুব বেশি লক্ষ্যবস্তু আর অবশিষ্ট নেই। ট্রাম্প বলেন, “আমি যখন চাইব তখনই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। বোমা ফেলার মতো প্রায় কিছুই আর বাকি নেই।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ইরানের সাধারণ মানুষকে নৌঘাঁটি থাকা বন্দর এলাকা এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে। অন্যদিকে ইজরায়েল জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও পারমাণবিক পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত আরও বহু লক্ষ্যবস্তু তাদের তালিকায় রয়েছে।

চলমান এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী প্রায় ২,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইরান ও লেবাননের বাসিন্দা।

শিশুরাও এই যুদ্ধে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনিসেফ-এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১,১০০ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

এই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। পরে তা কিছুটা কমে প্রায় ৯০ ডলারে নেমে এলেও নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় বুধবার আবার দাম বাড়তে শুরু করেছে।

ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে এবং তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে তেহরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং তারা ওই কৌশলগত জলপথের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

Releated Posts

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ এনএসএ অজিত ডোভালের, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

আবু ধাবি, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ…

ByByNews Desk Apr 26, 2026

‘বিপজ্জনক পেশা’: একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপর হামলার নজির, চার জন নিহত

নিউ ইয়র্ক, ২৬ এপ্রিল (আইএএনএস): “এটি একটি বিপজ্জনক পেশা”—সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গে এমন মন্তব্যই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।…

ByByNews Desk Apr 26, 2026

হাম সংকটে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচিত: রিপোর্ট

ঢাকা, ২৫ এপ্রিল(আইএএনএস): হাম টিকার সংকটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকটের চিত্র সামনে এসেছে। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে…

ByByNews Desk Apr 25, 2026

তাইওয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে ভারত: রিপোর্ট

নয়াদিল্লি, ২৫ এপ্রিল(আইএএনএস): তাইওয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করলে চীনের ওপর তার নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে…

ByByNews Desk Apr 25, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top