ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তীব্র উত্থানের পর স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত তেলের দামে

নয়াদিল্লি, ৩ মার্চ: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খল সংকটের জেরে আগের সেশনে ১০ শতাংশেরও বেশি লাফানোর পর মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দামে সাময়িক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে। এদিন ক্রুড অয়েল প্রায় ১ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী লেনদেন করে।

মঙ্গলবার প্রারম্ভিক লেনদেনে মার্কিন ক্রুড ফিউচার্স ১.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭২.২৩ ডলারে পৌঁছায়। অন্যদিকে ব্রেন্ট ক্রুড ১.৮৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯.২ ডলারে লেনদেন করে।

ইরানের পাল্টা হামলায় তেল ও গ্যাস পরিকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে। তেহরান সৌদি আরবের তেল-গ্যাস অবকাঠামোতে হামলা চালানোর পাশাপাশি কৌশলগত হরমুজ প্রণালী-এ নৌ চলাচল ব্যাহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে খবর। বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, এবং ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৪০ শতাংশেরও বেশি এই পথ ব্যবহার করে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় পদক্ষেপ ঘোষণার ইঙ্গিত বাজারে আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত করেছে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট এবং জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা ঘোষণা করবেন।

তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও তেলের দামের ভিত্তি শক্ত রাখছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের মত। একাধিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদি অবরোধ ভারত সামাল দিতে পারলেও দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ হলে বিকল্প সরবরাহকারী—রাশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলির উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে।

বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক মরগান স্ট্যানলি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল প্রবাহে স্থায়ী বিঘ্ন ঘটলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্য একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটলে দাম ৯০ ডলারের উপরে উঠতে পারে এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে তা ১০০ ডলারও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রাক্কলন অনুযায়ী, সীমিত সংঘাতে ব্যারেল প্রতি ৫–১০ ডলার বৃদ্ধি হতে পারে, আর ইরানের তেল অবকাঠামো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হলে দাম ১০–১২ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে প্রতি ১ ডলার বৃদ্ধি ভারতের বার্ষিক আমদানি ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি ডলার বাড়িয়ে দেয়, যা বাণিজ্য ঘাটতির উপর চাপ সৃষ্টি করে।

Leave a Reply