প্রথম চন্দ্রগ্রহণ আজ, সূতক কালে মন্দির বন্ধ; পুরোহিতদের ধর্মীয় নির্দেশিকা জারি

নয়াদিল্লি, ৩ মার্চ (আইএএনএস): ২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মহাজাগতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক রাজ্যে মন্দির কর্তৃপক্ষ মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এবং ভক্তদের জন্য ধর্মীয় বিধিনিষেধ ও নির্দেশিকা জারি করেছে।

ধর্মীয় নেতারা আইএএনএস-কে জানান, গ্রহণের সময়সূচি, ‘সূতক কাল’-এর গুরুত্ব এবং এ সময় ভক্তদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর প্রদেশে আচার্য রামবিলাস চতুর্বেদী জানান, ৩ মার্চের এই চন্দ্রগ্রহণটি একটি ‘উদীয়মান গ্রহণ’। তিনি বলেন, “উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে এবং চলবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত। এটি উদীয়মান গ্রহণ হওয়ায় যেখানে সূর্যাস্ত বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে হবে, সেখানে গ্রহণ দৃশ্যমান হবে। তবে মধ্য বা পশ্চিম ভারতে এটি দেখা যাবে না।”

তিনি আরও জানান, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সূতক কাল গ্রহণের ঠিক নয় ঘণ্টা আগে শুরু হয়। এই সময়কে অশুভ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং মন্দিরে পূজা-অর্চনা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সাধারণত স্থগিত রাখা হয়।

বিহারে মা দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরের সত্যেন্দ্রজি মহারাজ বলেন, “আজ একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণ শুরু হবে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে, তবে সূতক শুরু হয়েছে তার নয় ঘণ্টা আগে। এই সময়ে মন্দিরে পূজা ও দর্শন বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সময় নিজের ইষ্টদেবতা ও গুরুর মন্ত্র জপ করলে বহু গুণ আধ্যাত্মিক ফল লাভ হয়।”

তিনি জানান, বিহারে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য গ্রহণ দৃশ্যমান হবে। পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন। “যাঁদের নিয়মিত ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে প্রবীণরা, তাঁরা ওষুধ খেতে পারবেন। গ্রহণের আগে রান্না করা খাবারে তুলসী পাতা রেখে গ্রহণ শেষে তা গ্রহণ করা উচিত,” বলেন তিনি।

উত্তর প্রদেশের হনুমান মন্দিরের পুরোহিত শৈলেন্দ্র ত্রিপাঠী বলেন, “সূতক কালে মূর্তি পূজা ও আচার-অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ, তাই মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে।”

পণ্ডিত শ্যামজি পাঠকও একে ২০২৬ সালের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “বিকেল ৩টা ২০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত গ্রহণ চলবে। এই সময়ে জপ ও সাধনা করলে সাফল্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।”

ঝাড়খণ্ডের পাহাড়ি মন্দিরের পুরোহিত মনোজ কুমার বলেন, “চন্দ্রগ্রহণ উপলক্ষে মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। সূতক কাল গ্রহণের নয় ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হয়েছে।”

বিভিন্ন রাজ্যে ঐতিহ্য ও শাস্ত্র মেনে সূতক কালে মন্দির বন্ধ রাখা হয়েছে। ভক্তদের বাড়িতে বসে প্রার্থনা, উপবাস ও মন্ত্রজপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে বহু মানুষ এদিন উপবাস ও আধ্যাত্মিক সাধনায় অংশ নিয়েছেন।

Leave a Reply