News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • বাংলাদেশে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ৭০ শতাংশই ব্যবসায়ী পেশার
Image

বাংলাদেশে বিএনপি-নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার ৭০ শতাংশই ব্যবসায়ী পেশার

ঢাকা, ২২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পর নতুন মন্ত্রিসভার প্রায় ৭০ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী পেশার বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫০ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ৩৫ জনই নিজেদের পেশা হিসেবে ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১৬ জন প্রতিমন্ত্রী নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আইনজীবীরা মন্ত্রিসভায় দ্বিতীয় বৃহত্তম পেশাগত গোষ্ঠী। একাধিক সদস্য একাধিক পেশার কথাও উল্লেখ করেছেন।

দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ হওয়া সত্ত্বেও মাত্র দুই জন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং শিক্ষামন্ত্রী এএনএম এহসানুল হক মিলন—নিজেদের পেশা হিসেবে ‘রাজনীতি’ উল্লেখ করেছেন বলে জানিয়েছে ঢাকার একটি শীর্ষ দৈনিক।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের সাউথ প্লাজায় দুই জন টেকনোক্র্যাট কোটা-সহ ২৫ জন মন্ত্রী শপথ নেন।

এদিকে, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান সতর্ক করে বলেছেন, মন্ত্রিসভায় ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “মন্ত্রীদের যদি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ও দপ্তরের কর্মকাণ্ডে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁদের পদ ব্যবসায়িক লাভের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। নিজেদের প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট খাতকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে লাভবান করতে পারে—এমন সিদ্ধান্ত থেকে তাঁদের বিরত থাকতে হবে।”

তিনি আরও সতর্ক করেন, এ ধরনের নীতি উপেক্ষা করা হলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব সাধারণ মানুষকেই বহন করতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল মন্ত্রিসভা নয়, সংসদেও ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য স্পষ্ট। ৩০০টি আসনের মধ্যে নির্বাচিত ১৭৪ জন সাংসদ (প্রায় ৫৯ শতাংশ) নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ১৫ জন তৈরি পোশাক শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পারিবারিকভাবে যুক্ত।

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে, যার মধ্যে ১৪৫ জন বিজয়ী প্রার্থী নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন পাওয়া জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর ২০ জন সাংসদেরও ব্যবসায়িক পটভূমি রয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় এক সাংবাদিক বৈঠকে টিআইবি-র গবেষক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সমীক্ষা প্রকাশ করেন। সমীক্ষা অনুযায়ী, নবনির্বাচিত ২৩৬ জন সাংসদ কোটিপতি, যা মোট সাংসদের ৭৯.৪৬ শতাংশ। এর মধ্যে ১৩ জন শতকোটিপতিও রয়েছেন।

তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ১৮৯ জন সাংসদ কোটিপতি (৯০.৮৭ শতাংশ), আর জামায়াতে ইসলামির ৩৮ জন সাংসদ কোটিপতি, যা দলটির মোট শক্তির ৫৫.০৭ শতাংশ।

Releated Posts

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা, আহত অন্তত ১০; বাংলাদেশে তীব্র নিন্দা

ঢাকা, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও পড়ুয়াদের উপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত…

ByByNews Desk Oct 6, 2026

ভারত-তানজানিয়া সংসদীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার আলোচনা

দার এস সালাম, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): তানজানিয়ার আরুশায় অনুষ্ঠিত ১৫৩তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে ভারত ও তানজানিয়া…

ByByNews Desk Oct 6, 2026

ভারত-কোত দিভোয়ার সহযোগিতা জোরদারে দক্ষতা উন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব

আবিদজান, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): দক্ষতা উন্নয়ন, বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা, জ্ঞান বিনিময় এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও…

ByByNews Desk Oct 6, 2026

বাণিজ্য, পরিকাঠামো ও উদ্ভাবনে ভারত-সুইজারল্যান্ড সম্পর্ক আরও গভীর

নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): টেকসই পরিকাঠামো, তরুণ পেশাজীবীদের বিনিময়, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্যোগপতি তৈরির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে…

ByByNews Desk Oct 5, 2026
Scroll to Top