News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • পাকিস্তানে সামরিক শীর্ষকর্তাদের ‘প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতায়’ ব্যবসা বিস্তার, রিপোর্টে দাবি
Image

পাকিস্তানে সামরিক শীর্ষকর্তাদের ‘প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতায়’ ব্যবসা বিস্তার, রিপোর্টে দাবি

ইসলামাবাদ, ১৮ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ৯/১১-পরবর্তী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে পাকিস্তান সেনা। সেই সময় বেতন-বৈষম্য নিয়ে সেনার কিছু অংশে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

‘ভারতের আখ্যান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ যখন পাকিস্তান সেনার পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল, তখন সেনার কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ করেছিলেন যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলি তাদের যোদ্ধাদের যে পারিশ্রমিক দেয়, তা সরকারি বেতনের তুলনায় বেশি। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, এতে নিম্নপদস্থ সেনাদের মধ্যে ক্ষোভের আভাস মেলে।

প্রতিবেদনটিতে পাকিস্তানকে “একমাত্র দেশ যেখানে সেনাবাহিনীর একটি রাষ্ট্র রয়েছে”—এমন মন্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতার পর এক দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষিতে ১৯৫৮ সালে সেনাবাহিনী প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ধীরে ধীরে রাজনৈতিক কাঠামোর গভীরে প্রভাব বিস্তার করে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে দাবি, সামরিক বাহিনীর সদস্যরা বাণিজ্যিক ও মুনাফাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগে সম্প্রসারিত হয়েছেন, যা এখন পাকিস্তানের রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি বড় অংশ। এসব উদ্যোগের সুবিধা মূলত অফিসার শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিকা তাঁর বই সামরিক প্রতিষ্ঠান: পাকিস্তানের সামরিক অর্থনীতির ভেতরে-এ এই সামরিক-ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ককে ‘মিলবাস’ নামে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ‘অডিটবিহীন সামরিক পুঁজি’ প্রধানত শীর্ষকর্তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে সঞ্চিত হয়েছে এবং তা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশের অন্যতম বৃহৎ জমির মালিক, বড় শিল্পগোষ্ঠী ও গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শক্তি হিসেবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে প্রভাব বিস্তার করে। নীতিনির্ধারণ ও সম্পদ বণ্টনের উপর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব আরও সুদৃঢ় হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া বলা হয়েছে, বেসামরিক সরকারগুলি যখন এই সমান্তরাল অর্থনৈতিক কাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন তাদের অপসারণ করা হয়েছে। এই আর্থিক নেটওয়ার্ক বছরে বহু বিলিয়ন ডলার আয় করে এবং তা কর, নিয়ন্ত্রণ বা বেসামরিক তদারকি থেকে অনেকাংশে মুক্ত—এমন অভিযোগও রয়েছে রিপোর্টে।

রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির গত মাসে দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম-এ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ-এর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, যা অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাবের ইঙ্গিত বহন করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ।

এছাড়াও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে বৈঠকের সময়ও সেনাপ্রধান প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ছিলেন এবং সেখানে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

Releated Posts

গুপ্তচর সন্দেহে চার মাসের ভোগান্তি, দেশে ফেরার অপেক্ষায় বাংলাদেশে আটকে মানসিকভাবে অসুস্থ ভারতীয় বৃদ্ধ

কলকাতা, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : ভুলবশত ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছে যাওয়ার পর গুপ্তচর সন্দেহে দীর্ঘদিন…

ByBySandeep Biswas Jul 8, 2026

ইরানকে আরও সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, প্রয়োজনে ফের নৌ অবরোধের ইঙ্গিত

আঙ্কারা, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : ইরান হামলা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে বলে…

ByBySandeep Biswas Jul 8, 2026

পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ভারতের, সব পক্ষকে সংযম ও আলোচনায় ফেরার আহ্বান

নয়াদিল্লি, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক হামলা এবং ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত।…

ByBySandeep Biswas Jul 8, 2026

মার্কিন শুল্ক প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা ভারতের, ‘আইনি ও বাস্তবভিত্তিক ভিত্তির অভাব’, দাবি নয়াদিল্লির

ওয়াশিংটন, ৮ জুলাই (আইএএনএস) : ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের মার্কিন প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করল…

ByBySandeep Biswas Jul 8, 2026
Scroll to Top