জম্মু, ৭ ফেব্রুয়ারি : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সহযোগিতা মন্ত্রী অমিত শাহ আজ জম্মুতে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে জম্মু ও কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়।
এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সড়ক পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিল্প, পর্যটন, ৪জি ও অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা, মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব এবং কেন্দ্র ও জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অমিত শাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত সরকার উন্নত ও সমৃদ্ধ জম্মু ও কাশ্মীর গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, মোদি সরকারের ধারাবাহিক ও নিবেদিত প্রচেষ্টার ফলেই জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়ন প্রকল্পগুলি নজিরবিহীন অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে তার জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সম্পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির ১০০ শতাংশ স্যাচুরেশন নিশ্চিত করা এবং উন্নয়নের সুফল প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের জম্মু ও কাশ্মীর ভ্রমণের আগ্রহ এখনও অটুট রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশের অন্যান্য রাজ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের পর্যটন কেন্দ্রগুলির আগ্রাসী প্রচার প্রয়োজন। তিনি জানান, নতুন পর্যটন গন্তব্য উন্নয়নের পরিকল্পনায় কেন্দ্র সরকার সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।
তিনি আরও বলেন, যুবসমাজকে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতে ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা এবং ক্রীড়া একাডেমি স্থাপনের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে প্রায় ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আনার প্রচেষ্টা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড (এনডিডিবি)-এর মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের দুগ্ধ খাতের প্রসারেও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে, ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রথমবারের মতো জম্মু ও কাশ্মীরকে পুঁজি বিনিয়োগের জন্য রাজ্যসমূহ(SASCI) বিশেষ সহায়তা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে মূলধনী প্রকল্পের জন্য ৫০ বছরের সুদমুক্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অমিত শাহ বলেন, শক্তিশালী আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় থাকলে দীর্ঘমেয়াদে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের আর্থিক ঘাটতি স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।
অমিত শাহ বলেন, স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তিতে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে ভারত দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং এই যাত্রায় জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ সমর্থন দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর এই সফর জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তাকে জাতীয় অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখার ক্ষেত্রে ভারতের সরকারের দৃঢ় সংকল্পেরই প্রতিফলন।



















