আগরতলা, ২ ফেব্রুয়ারী: ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করেছেন। এই বাজেট ১৪০ কোটি ভারতবাসীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এবং সংস্কারের যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করে বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করবে। তাছাড়া, এবছরের বাজেট কৃষি উন্নয়নের বাজেট। আজ প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবছরের বাজেটে মেডিকেল হাব গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের পেশাদার মানবসম্পদ তৈরি হবে। পাশাপাশি ক্যানসার ও বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য বড় স্বস্তি দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। ক্যানসারের ১৭টি ও বিরল রোগের ৭টি ওষুধে সম্পূর্ণ কাস্টমস শুল্ক মকুব করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উত্তর ভারতে একটি দ্বিতীয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্সেস (নিমহান্স) স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এবারের বাজেটে দেশের মোট আয়ের ৪১ শতাংশ রাজ্যগুলিকে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার সুযোগ ত্রিপুরাও পাবে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন মন্দির ও মঠ সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণ করা হবে, যাতে সেগুলি তীর্থস্থান ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। এর ফলে ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পের মানোন্নয়ন ঘটবে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ক্ষুদ্র ও হস্তশিল্পের পাশাপাশি অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগ (এমএসএমই) ক্ষেত্রকে সহায়তা দেওয়ার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় স্তর থেকে বৈশ্বিক স্তরে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শিল্পোদ্যোগীরা নতুন শক্তি ও সুযোগ পাবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এবছরের বাজেট সত্যিই ঐতিহাসিক। এটি বিশ্বাসভিত্তিক শাসনব্যবস্থা ও মানবকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রতিফলন। একই সঙ্গে রাজকোষ ঘাটতি কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উচ্চ মূলধনী ব্যয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



















