মদনমোহন দেবনাথ রোডে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সরকারি বিবৃতি প্রকাশ ধর্মনগর পুর পরিষদের

ধর্মনগর, ২০ ডিসেম্বর: গতকাল ধর্মনগরের মদনমোহন দেবনাথ রোডে প্রস্তাবিত বিশিষ্ট মহিলা আবাস নির্মাণকে কেন্দ্র করে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করল ধর্মনগর পুর পরিষদ।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উক্ত জমিটি সরকারের রাজস্ব দপ্তরের লিখিতভুক্ত জমি ছিল এবং বহু বছর আগেই সমাজকল্যাণ দপ্তরের কাছে প্রস্তাবিত নির্মাণ কাজের জন্য হস্তান্তর করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডঃ মানিক সাহা গত ২৫ সেপ্টেম্বর ওই নির্মাণ কাজের শিলান্যাস করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্মাণ কাজ শুরু করার লক্ষ্যে প্রশাসনের নির্ধারিত নির্মাণ সংস্থাকে জমি বুঝিয়ে দিতে গেলে একাধিকবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়। কারণ, সেখানে আগে থেকেই কিছু কদর্যের ঘর ছিল এবং শিলান্যাসের পরও এক-দুটি পরিবার নতুন করে সেখানে বসবাস শুরু করে।

প্রস্তাবিত নির্মাণস্থলটি ধর্মনগর পুর পরিষদের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত হওয়ায় প্রশাসনিক স্তর থেকে পুর পরিষদের কাছে নির্মাণ কাজে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে বিষয়টির সমাধানে পুর পরিষদ সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়।

প্রথম পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি, এলাকার সম্মানিত নাগরিক ও পুরকর্মীদের মাধ্যমে বেআইনি দখলদার পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বেচ্ছায় স্থান ত্যাগ করার অনুরোধ জানানো হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার যোগাযোগ সত্ত্বেও পরিবারগুলির তরফে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

পরবর্তীতে প্রায় দু’মাস পর, গত ১০ ডিসেম্বর পুর পরিষদের মাননীয় চেয়ারপার্সনের সভাপতিত্বে পুর পরিষদ কার্যালয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সম্মিলিত দপ্তরের আধিকারিক, মহকুমা শাসক ও এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে সাময়িকভাবে পুরসভার খরচে শেল্টার হাউসে থাকার ব্যবস্থা এবং সরকারি জমি বরাদ্দের জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকেও মৌখিকভাবে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারগুলি এই প্রস্তাবেও সম্মতি দেয়নি।

বাধ্য হয়ে পুর পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারগুলিকে তিন দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর অনুরোধ করা হয়। তবে তারা কোনও সিদ্ধান্ত না জানিয়ে চলে যায় এবং পরবর্তীতে জায়গা ছাড়তে অস্বীকার করে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবশেষে গতকাল ১৯ ডিসেম্বর উক্ত প্রস্তাবিত জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ধর্মনগর পুর পরিষদের উপ কার্যনির্বাহী আধিকারী অমরজিৎ বিশ্বাস ২০ ডিসেম্বর তারিখে প্রকাশিত এই বিবৃতিতে পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেন।