News Flash

  • Home
  • ত্রিপুরা
  • তেলিয়ামুড়া থেকে উত্তর মহারানী সংযোগকারী সড়কের ভগ্নদশা, ক্ষোভ জনমনে
Image

তেলিয়ামুড়া থেকে উত্তর মহারানী সংযোগকারী সড়কের ভগ্নদশা, ক্ষোভ জনমনে

তেলিয়ামুড়া, ১২ ডিসেম্বর: উন্নয়নের প্রতিটি মাপকাঠিতে যোগাযোগব্যবস্থা যে মূল চালিকাশক্তি—এ কথা নতুন নয়। কিন্তু বাস্তব চিত্র যখন তার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হাঁটে, তখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, হতাশা আর প্রশ্নবাণে প্রশাসনকে সমালোচনার মুখে পড়তেই হয়। এমনই এক জ্বলন্ত উদাহরণ তেলিয়ামুড়া থেকে উত্তর মহারানী সংযোগকারী সড়ক পথের ভগ্নদশা। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা কার্যত সাধারণ মানুষের ‘প্রতিদিনের দুর্ভোগের পাঠশালা’।

২৯-নং কৃষ্ণপুর মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত গোলাবাড়ি, উত্তর–দক্ষিণ কৃষ্ণপুর, মধ্য কৃষ্ণপুর, নয়নপুর—প্রধানত কৃষিনির্ভর এলাকা। এখানকার বাসিন্দাদের একমাত্র জীবিকা কৃষিকাজ, আর সেই কৃষিজ পণ্য বাজারজাত করতে গেলে প্রথম বাধা ওই ভগ্নপ্রায় রাস্তা। পথের গর্ত, বৃষ্টিতে কাদার সমুদ্র—সব মিলিয়ে পণ্য বাজারে পৌঁছোতে গিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সময় ও বেশি লাগছে। বাড়ছে খরচ, আর কৃষকদের ক্ষোভ চরমে উঠছে।যানচালকদের অভিযোগ আরও তীব্র।

নয়নপুরের এক যান চালক জানান—“নিজের বাড়ি ওই এলাকায়। কিন্তু রাস্তাটার দশা এমন যে যাত্রী নিয়ে ঢুকলে গাড়ি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা। তাই যেতে চাই না।’’স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী থেকে অসুস্থ মানুষ—সকলের জন্য এই রাস্তা আজ এক দুঃস্বপ্ন। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা বা জরুরি রোগীকে তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে আনতে হলে এই ভগ্ন রাস্তা যেন মৃত্যুফাঁদের মতো। বহু সময়ে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ।৭০ বছরের এক প্রবীণ বাসিন্দা ক্ষোভের সুরে বলেন—
“এই রাস্তায় পাঁচ মিনিট হাঁটলেই মাথা ঘুরে যায়। এত কষ্টের মধ্যে প্রতিদিন চলাফেরা করতে করতে শরীরটাই ভেঙে পড়ছে।”

কিন্তু এই সমস্যার রাজনৈতিক মাত্রা আরও বিস্তৃত। অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার বাড়ি উত্তর মহারানীপুর এলাকাতেই হলেও এই রাস্তার করুণ অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। এমনকি স্থানীয় মানুষজন জানান,“রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে মন্ত্রী মহাশয় নিজেই অন্য বিধানসভা কেন্দ্রের রাস্তা ব্যবহার করে বাড়ি আসেন!”দুই বছর ধরে দাবি জানিয়েও কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ সরাসরি তাঁর দপ্তরের দিকেই আঙুল তুলছে। ভোটের সময় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি যারা দিয়েছিলেন, আজ তাদের নীরবতা মানুষ আরও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।এলাকাবাসীদের বক্তব্য স্পষ্ট—“প্রশাসন যদি এখনই না শোনে, তাহলে মানুষ রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে।’’

কৃষক, ছাত্রছাত্রী, রোগী, যানচালক—সকলেরই একটাই দাবি:“যত দ্রুত সম্ভব রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হোক।’’এখন সমস্ত নজর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দিকে।মানুষের চোখে প্রশ্ন- শীত যায় গরম আসে গরম যায় শীত আছে কিন্তু এ রাস্তার আর কোন হাল ফিরে না। জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই যদি জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানে নীরব থাকেন…তবে উন্নয়নের ভাষা আসলে কার জন্য লেখা হচ্ছে?চলমান জনদুর্ভোগ কি এবার প্রশাসনের ঘুম ভাঙাবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়। না এভাবেই চলতে থাকবে বছরের পর বছর ,গতানুগতিভাবে চলবে প্রশ্ন সার্বিক এলাকার মানুষের।

Releated Posts

কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে আড়ালিয়া পঞ্চায়েতের গ্রামবাসী

চড়িলাম, ২২ এপ্রিল: ড্রেন ও ব্রিক সলিংয়ের কাজ না করেই বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে উত্তাল চড়িলাম ব্লকের…

ByByReshmi Debnath Apr 22, 2026

চড়িলামে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে সূর্যমুখীর বাগান, দূরদূরান্ত থেকে লোকজনের ভিড়

চড়িলাম, ২২ এপ্রিল: এক সময়ে শান্ত কৃষি জমি এখন একটি ব্যস্ত পর্যটন কেন্দ্রে হয়েছে। কারণ সেখানকার প্রাণবন্ত সূর্যমুখীর…

ByByReshmi Debnath Apr 22, 2026

নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে গভীর রাতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ২২ এপ্রিল: মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা রাজ্য জুড়ে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের জন্য শান্তি,…

ByByReshmi Debnath Apr 22, 2026

জোলাইবাড়ীতে পৃথক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই

জোলাইবাড়ী, ২২ এপ্রিল: বুধবার বিকেলে জোলাইবাড়ী সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে জাতীয় সড়কে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক…

ByByReshmi Debnath Apr 22, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top