বামাকো, ৮ নভেম্বর : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে অপহরণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে শনিবার নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটি বর্তমানে আল-কায়েদা ও আইএসআইএস-সংযুক্ত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম মালির কোব্রি অঞ্চলের কাছে একদল সশস্ত্র ব্যক্তিরা ওই পাঁচ ভারতীয়কে অপহরণ করে। তারা স্থানীয় বিদ্যুতায়ন প্রকল্পে কর্মরত ছিলেন বলে নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। অপহৃতদের নিয়োগকারী কোম্পানির এক প্রতিনিধি জানান, আমরা পাঁচ ভারতীয় নাগরিকের অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করছি। কোম্পানির বাকি ভারতীয় কর্মীদের ইতিমধ্যে রাজধানী বামাকোতে সরিয়ে আনা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠন এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।
মালিতে সামরিক জান্তার শাসন চলাকালীন দেশটি গত কয়েক বছর ধরে চরম অস্থিরতা ও জঙ্গি হামলার কবলে রয়েছে। আল-কায়েদা-সংযুক্ত ‘গ্রুপ ফর দ্য সাপোর্ট অব ইসলাম অ্যান্ড মুসলিমস’ সম্প্রতি জ্বালানি সরবরাহে অবরোধ আরোপ করেছে, যা দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।
বিদেশি নাগরিক অপহরণের ঘটনা মালিতে নতুন নয়। ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিক সামরিক অভ্যুত্থান ও জিহাদি হামলায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে জেএনআইএম যোদ্ধারা বামাকোর কাছে দুই এমিরাতি ও এক ইরানি নাগরিককে অপহরণ করেছিল। প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দেওয়ার পর তারা সম্প্রতি মুক্তি পান।
২০১২ সালে তুয়ারেগ বিদ্রোহ থেকে জন্ম নেওয়া জেএনআইএম উত্তর মালি থেকে দেশের মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত এবং প্রতিবেশী বুরকিনা ফাসো ও নাইজার-এও তাদের প্রভাব বিস্তার করেছে। মালির জান্তা নেতা আসিমি গোইতা ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাস দমনের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়ার সঙ্গে জোট গঠনের পরও বড় কোনো সাফল্য আসেনি।
যদিও রাজধানী বামাকো এখনো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবুও জেএনআইএম-এর অগ্রগতি নিয়ে মালির সাধারণ মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যে অঞ্চলে জঙ্গিরা আধিপত্য বিস্তার করেছে। সেখানে তারা কঠোর নিয়ম চাপিয়ে দিচ্ছে। চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে এবং মহিলাদের গণপরিবহনে হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করছে।

