চেন্নাই, ৮ আগস্ট : তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম.কে. স্টালিন শুক্রবার চেন্নাইয়ের কোট্টুরপুরমের আন্না শতবর্ষ গ্রন্থাগার অডিটোরিয়ামে রাজ্য শিক্ষা নীতি (এসইপি) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করলেন। কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষা নীতির (এনইপি) বিকল্প হিসেবে এই নীতিকে তুলে ধরা হয়েছে।
২০২২ সালে নতুন নীতি প্রণয়নের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মুরুগেশন-এর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গত বছর জুলাইয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কমিটি তাদের সুপারিশপত্র জমা দেয় এবং এবার সেই নীতিপত্র সরকারিভাবে প্রকাশিত হল।
এই নীতির মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল—তামিলনাড়ুর প্রচলিত দ্বিভাষা নীতি বজায় রাখা। কেন্দ্রীয় সরকারের তিন-ভাষার ফর্মুলা এসইপি-তে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সূত্রের দাবি, কলা ও বিজ্ঞান শাখার স্নাতক কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে সাধারণ প্রবেশিকা পরীক্ষার পরিবর্তে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সম্মিলিত নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়াও এসইপি-তে জাতীয় শিক্ষানীতিতে প্রস্তাবিত তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাবলিক পরীক্ষা চালুর পরিকল্পনার বিরোধিতা করা হয়েছে। এই প্রস্তাবকে ‘প্রতিক্রিয়াশীল’, ‘সামাজিক ন্যায়ের পরিপন্থী’ এবং ‘ড্রপআউট ও শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের আশঙ্কা বাড়াতে পারে’ বলে মন্তব্য করেছে কমিটি।
নীতিপত্রে বিজ্ঞানের বিকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইংরেজি শিক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বড় মাপের বিনিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া, শিক্ষা খাতকে পুনরায় রাজ্য তালিকাভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
এই নীতির প্রকাশ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে অর্থনৈতিক অনুদান নিয়ে টানাপড়েন চলছে। তামিলনাড়ু সরকার অভিযোগ করেছে, এনইপি বাস্তবায়ন না করায় সমগ্র শিক্ষা প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্র ২,১৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ আটকে রেখেছে।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, রাজ্য এনইইটি (নিট) গ্রহণ করলেই কেবল অর্থ ছাড়া হবে। এরই প্রতিক্রিয়ায় এসইপি প্রকাশ অনুষ্ঠানে রাজ্যের মন্ত্রী উদয়নিধি স্টালিন সাফ জানিয়ে দেন, ওঁরা যদি ১,০০০ কোটি টাকাও দেয়, তবুও তামিলনাড়ু এনইপি কার্যকর করবে না। তামিলনাড়ু কোনও চাপ সহ্য করে না।



















