নয়াদিল্লি, ৮ আগস্ট : এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক বিচারপতির বিরুদ্ধে ৪ আগস্টের দেওয়া আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, বিচারপতিকে অপরাধমূলক মামলা শুনানি থেকে বিরত রাখতে হবে অবসরের দিন পর্যন্ত এবং তাঁকে একজন সিনিয়র বিচারপতির সঙ্গে বসানো হবে।
বিচারপতি জে বি পার্ডিওয়ালা এবং আর মহাদেবনের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার এক ফৌজদারি অভিযোগ খারিজে অস্বীকার করেন এই যুক্তিতে যে, আর্থিক আদায়ের জন্য দেওয়ানি প্রতিকার পাওয়া গেলেও তা ফৌজদারি অভিযোগ খারিজের পক্ষে যথেষ্ট নয়।
এই আদেশ প্রত্যাহার করা হয় প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের অনুরোধে। তিনি বিচারপতির উপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা পুনর্বিবেচনার জন্য বেঞ্চকে অনুরোধ করেছিলেন। আদেশ ঘিরে দেশের বিভিন্ন মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
বিচারপতি পার্ডিওয়ালা বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে একটি তারিখবিহীন চিঠি পেয়েছি, যেখানে অনুচ্ছেদগুলোর পর্যবেক্ষণ পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আমরা রেজিস্ট্রিকে নির্দেশ দিয়েছি বিষয়টি পুনরায় তালিকাভুক্ত করা হোক।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এলাহাবাদ হাইকোর্টের ১৩ জন বিচারপতিও প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখে সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ কার্যকর না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
নতুন আদেশে বিচারপতি পার্ডিওয়ালা স্পষ্ট করেন, আমাদের উদ্দেশ্য কোনওভাবেই সংশ্লিষ্ট বিচারপতিকে অপ্রস্তুত করা বা তাঁর সম্মানহানি করা নয়। এমনটা ভাবাও আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। তবে যখন পরিস্থিতি একটি সীমা ছাড়িয়ে যায় এবং প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়ে, তখন সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক দায়িত্ব হয় হস্তক্ষেপ করা, এমনকি তা সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদের অধীনে আপিলের বিচারের ক্ষেত্রেও।
বেঞ্চ আরও ব্যাখ্যা করে জানায়, সুপ্রিম কোর্টের লক্ষ্য ছিল বিচারব্যবস্থার সম্মান রক্ষা করা, কোনওভাবেই হাইকোর্টের প্রশাসনিক ক্ষমতায় হস্তক্ষেপ করা নয়। হাইকোর্ট বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তারা কখনোই বিচ্ছিন্ন কোনো সত্তা নয় বলে বেঞ্চ মন্তব্য করেছে।
আদালত জানায়, আমরা আমাদের ৪ আগস্টের আদেশের ২৫ এবং ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করছি এবং সংশ্লিষ্ট মামলার বিষয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছি।
যদিও আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, তবুও বেঞ্চ জানায়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের আসল আদেশটিকে তারা “বিকৃত” ও “অবৈধ” বলে মনে করে এবং এর যুক্তির ভিত্তিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। আদালতের মতে, এমন আদেশ জনসাধারণের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা দুর্বল করে এবং তা উপেক্ষা করা যায় না।



















