ঢাকা, ৮ জুলাই : অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চীন মিয়ানমারের প্রতি তার কৌশলগত নীতি পুনর্গঠন করেছে, যার উদ্দেশ্য ভারতকে একাধিক দিক থেকে চাপ দেওয়া। বিশেষ করে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দিকে চীনের এই নতুন কৌশল। সূত্রগুলির মতে, এই পুনঃসংশোধন চীনের পরিকল্পনা অনুযায়ী মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে একটি কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, যা ভারতকে নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন দিক দিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে সাহায্য করবে।
গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, চীন মিয়ানমারে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করছে, যার মধ্যে রয়েছে মুসে-ম্যান্ডালে-ক্যাওকফিউ রেলপথ এবং চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর -এর সঙ্গে সংযুক্ত পাইপলাইনগুলো। এই প্রকল্পগুলো কেবল উত্তরের শান রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথগুলোকে সুরক্ষিত করবে না, বরং চীনের নিয়ন্ত্রণ বাড়াবে গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট অঞ্চলে।
অতিরিক্তভাবে, চীনে মিয়ানমারের সাথে যৌথ নিরাপত্তা কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে, যা “পুঁজির সুরক্ষা” লক্ষ্য করে, এবং এর মাধ্যমে জান্তা বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এই চীনা সমর্থিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা মিয়ানমারের আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করছে এবং ভারতের সীমান্তের কাছে চীনের প্রভাবকে আরও দৃঢ় করছে।
গোয়েন্দা সূত্র আরও জানায়, চীন-পরিচালিত সংঘর্ষ বিরতির পর, যেমন হাইগেং চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর, চীন মনোনীত অঞ্চলগুলিতে বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ পুনরুদ্ধার করেছে। এর ফলে, মিয়ানমারের জাতীয় গণতান্ত্রিক মৈত্রী বাহিনী -এর মত গোষ্ঠীসমূহ তাদের সামরিক অভিযান আরও ত্বরান্বিত করেছে, যা ভারতের সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
এছাড়াও, ২০২৫ সালের মিয়ানমারের ভূমিকম্পে চীন ১৪ মিলিয়ন ডলার সাহায্য পাঠিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সাহায্যের মধ্যে সবচেয়ে বড়। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এটি চীনের মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতাকে গভীরতর করেছে এবং ভারতের সীমান্তের কাছে চীনের প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে চীনের এই কৌশলের মধ্যে রয়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে মাদক চক্র ও অপরাধী গোষ্ঠীসমূহকে সমর্থন দেওয়া, যা ভারতকে একাধিক ফ্রন্টে চ্যালেঞ্জে ফেলবে। এর মূল লক্ষ্য হতে পারে ভারতের কৌশলগত মনোযোগ বিভক্ত করা, বিশেষত পাকিস্তান এবং অস্থির পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের কারণে। এতে ভারতীয় প্রকল্পগুলির মতো ক্যালাদান করিডোর এবং ত্রিদেশীয় মহাসড়কের মতো সংযোগ প্রকল্পগুলিতে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী পরিস্থিতি: মিয়ানমারে চীনের নতুন কৌশল, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চাপ বাড়ানোর লক্ষ্য
Releated Posts
তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ যোগীর
লখনউ, ২৪ মে (আইএএনএস): তীব্র গরম ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার কথা মাথায় রেখে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে শহর ও গ্রামীণ…
বাংলার প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ, রাখা হবে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও বিদেশি বন্দিদের
কলকাতা, ২৪ মে (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ‘হোল্ডিং সেন্টার’ তৈরির নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা…
কেএমসি-র ভাঙার নোটিসে জবাব দিতে সময় চাইলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা, ২৪ মে (আইএএনএস): বাড়ির মূল্যায়ন এবং ভবানীপুরের বাসভবনের একটি অংশ অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত কলকাতা পৌরসভা (কেএমসি)-র নোটিসের…
২০২৭ ভোটের প্রস্তুতিতে বুথস্তরে সংগঠন মজবুত করার বার্তা মায়াবতীর
লখনউ, ২৪ মে (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সংগঠনকে বুথস্তর পর্যন্ত শক্তিশালী করার নির্দেশ…


















