নয়াদিল্লি/শিমলা/রাঁচি, ৭ জুলাই — দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে ভারতের একাধিক রাজ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। হিমাচল প্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, দিল্লি, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশা, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও কর্ণাটক সহ বহু স্থানে বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। হিমাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় মেঘভাঙা, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটছে।
হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি, কাংড়া ও সিরমৌর জেলায় আজ ভারতের আবহাওয়া দফতর লাল সতর্কতা জারি করেছে। এর পাশাপাশি, রাজ্যের অন্যান্য অনেক জেলায় ১০ জুলাই পর্যন্ত হলুদ ও কমলা সতর্কতা বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। গত ২০ জুন থেকে সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে হিমাচল জুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে মাটি সরে যাওয়া, নদী-নালার জলস্ফীতি, ব্রিজ ও রাস্তা ধ্বংস, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার মত ঘটনা ঘটছে।
বিশেষ করে মাণ্ডি জেলার থুনাগ অঞ্চলে পরপর মেঘভাঙার কারণে জলবাহী পাইপলাইন, ট্রান্সফর্মার ও পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জল শক্তি দফতরের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার অঞ্জু শর্মা বলেন, “এই বিধানসভার সব ৮১টি পঞ্চায়েতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে উৎসস্থল খুঁজে বের করছি। কর্মীদের একত্র করে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।”
উত্তরাখণ্ডের রাজ্য বিপর্যয় পরিচালনা কেন্দ্র জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (জিএসআই) ও আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে তেহরি, উত্তরকাশী, রুদ্রপ্রয়াগ ও চামোলি জেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ৭ ও ৮ জুলাই এই জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষ করে উখিমঠ, চামোলি, নরেন্দ্রনগর, ধনোল্টি, দুঞ্জা ও চিনিয়ালিসৌর উপবিভাগগুলিতে ভূমিধস হতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু সড়ক বন্ধ হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
আজ ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি সহ রাজ্যের ১২টি জেলায় আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি হয়েছে। গড়ভা, পালামু, লাতেহার, লোহরদাগা, গুমলা, সিমডেগা, খুঁটি, রাঁচি, সারাইকেলা, পূর্ব ও পশ্চিম সিংভূম, এবং বোকারো এই তালিকায় রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী ট্রফ লাইন ঝাড়খণ্ডের ওপর দিয়ে অতিক্রম করছে, যার ফলে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির প্রবণতা প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাঁচিতে সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
দিল্লি ও এনসিআর অঞ্চলে আজ সকাল থেকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর আজ রাজধানীর সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। দিল্লির মেহরৌলি-বদরপুর রোডসহ একাধিক জায়গায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে, যার ফলে যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
গ্রেটার নয়ডা এলাকায় প্রবল জলাবদ্ধতার কারণে স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বহু গাড়িকে জলমগ্ন রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা গেছে।
ওড়িশার ১৬টি জেলায় আইএমডি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দিয়েছে। কেওনঝর, আঙ্গুল, সম্বলপুর, ঝারসুগুড়া, বargarh, নুয়াপাড়া সহ একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের উপকূল অঞ্চলে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা ওড়িশার ওপর প্রভাব ফেলছে।
মহারাষ্ট্রের পালঘর ও পুনে জেলায় আজ আইএমডি লাল সতর্কতা জারি করেছে। এই অঞ্চলে অতি ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত ও ঘণ্টায় ৫৫ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কেরালার ভাজাকুলাম অঞ্চলে আনারস উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ফলস্বরূপ, কর্ণাটকের বিভিন্ন শহর — বেঙ্গালুরু, মাইসোর, টুমকুর, মাঙ্গালুরু এবং উদুপি — এ আনারসের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু দেশের প্রায় সব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতজুড়ে আগামী সাত দিন বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, আজ দেশের যেসব অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে তা হলো — উত্তরাখণ্ড, দিল্লি, চণ্ডীগড়, হিমাচল প্রদেশ, গুজরাট, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, বিদর্ভ, পূর্ব রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও তटीয় কর্ণাটক।
সারাদেশে বর্ষা মৌসুম সক্রিয় অবস্থায় থাকায় বিভিন্ন রাজ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা বেড়েছে। সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ত্রাণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ করা হচ্ছে, সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলা এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার।



















