News Flash

  • Home
  • বিদেশ
  • দেশি-বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে : শেখ হাসিনা
Image

দেশি-বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে : শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদন, ১৭ এপ্রিল: দেশি-বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে এখন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবীরোধীদের দখলে রয়েছে দেশ। তাদের সন্ত্রাস, উগ্র-সাম্প্রদায়িকতা ও দুঃশাসনে জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বও হুমকির সম্মুখীন। এরকম দুঃসময়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য ইতিহাস ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারবাহিকতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে এমনটাই বার্তা দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

এদিন তিনি বার্তায় বলেন, আজ ১৭ এপ্রিল। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পথে গুরুত্বপুর্ণ এক মাইলফলক। এইদিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। পাশাপাশি এদিন তিনি স্বশরীরে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী জাতীয় চারনেতা তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এ এইচ এম কামরুজ্জামান ও এম মনসুর আলী সহ সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ, মুক্তিবাহিনীসহ সকল মুক্তিযোদ্ধা, ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষাধিক বীরাঙ্গনাদের স্মরণ করেছেন।

এদিন তিনি আরও বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে। এটি ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফার প্রতি সমগ্র জাতির অকুণ্ঠ সমর্থন। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী জানতো, ছয়দফা মূলতঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি কৌশলগত রূপরেখা। তাই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বদলে জেনারেল ইয়াহিয়ার সরকার ২৫ মার্চ কালরাতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ এর নামে ঘুমন্ত-নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে হত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। যা ইপিআর ওয়্যারলেস, টেলিগ্রাম এবং টেলিপ্রিন্টারের মাধ্যমে সারা দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর অব্যবহিত পরেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তাঁকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

এমতাবস্থায়, জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ তথা গণপরিষদের সদস্যরা ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রণয়ণ করেন। ঘোষণাপত্রে বলা হয়-“সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি যে ম্যান্ডেট দিয়েছেন সে ম্যান্ডেট মোতাবেক আমরা, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা, আমাদের সমবায়ে গণপরিষদ গঠন করে পারষ্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশে বাংলাদেশকে একটি সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেছে এবং এর দ্বারা পূর্বাহ্নে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা অনুমোদন করছি; এতদ্বারা আমরা আরও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি যে শাসনতন্ত্র প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপ্রধান এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপ্রধান পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন এবং রাষ্ট্রপ্রধান প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয় এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করে একটি মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।

পাশাপাশি, এইদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ সরকারের শপথ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অনুমোদনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল নৈতিক ভিত্তিই লাভ করেনি সাথে সাথে আইনি ভিত্তিও অর্জন করে। এই মুক্তিযুদ্ধ কেবল একটি সশস্ত্র যুদ্ধ নয়, এর ভিত্তিতে রয়েছে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম। নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধও হয়েছে নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিচালনায়। এমনকি মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি এবং চিফ অফ স্টাফ দুজনেই ছিলেন ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ১৭ এপ্রিল গঠিত গণপরিষদেরও সদস্য। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রই বাংলাদেশের প্রথম সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কার্যকর হয়।

মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পর ১০ জানুয়ারী ১৯৭২ পাকিস্তানের কারাগার থেকে রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্ত হয়ে প্রত্যাবর্তনের পর গণপরিষদ সদস্যগণ স্বাধীন বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ সংবিধান রচনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। স্বাধীনতার সনদ ও সংবিধানের মূলনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, বাঙালী জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক শোষণমুক্ত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল এবং জনগণের সহযোগিতায় অনেকটুকু সফলতাও অর্জন করেছিল। কিন্তু দেশি-বিদেশি অপশক্তির ষড়যন্ত্রের শিকার বাংলাদেশ এখন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবীরোধীদের দখলে। তাদের সন্ত্রাস, উগ্র-সাম্প্রদায়িকতা ও দুঃশাসনে জনজীবন যেমন বিপর্যস্ত, তেমনি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বও হুমকির সম্মুখীন। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত সংবিধানকে অস্বীকার করে তারা অসংখ্য মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে অস্বীকার করছে।
এ রকম দুঃসময়ে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য আমাদেরকে ইতিহাস ও স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ধারবাহিকতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

Releated Posts

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় মিশনের উদ্যোগ, বিভিন্ন দেশে আয়োজিত বিশেষ যোগ সেশন

লন্ডন, ২১ জুন (আইএএনএস): ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ও হাইকমিশনগুলির উদ্যোগে…

ByByNews Desk Jun 21, 2026

হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে ফিরছে তিন ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ, বহন করছে ৮.৬ লক্ষ মেট্রিক টনেরও বেশি অপরিশোধিত তেল

নয়াদিল্লি, ২১ জুন (আইএএনএস): ভারতের সামুদ্রিক ও জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে তিনটি ভারতীয় পতাকাবাহী অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার…

ByByNews Desk Jun 21, 2026

ইরানের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি ও লেবানন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় সুইজারল্যান্ডে রওয়ানা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

ওয়াশিংটন, ২১ জুন (আইএএনএস): ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে…

ByBySandeep Biswas Jun 21, 2026

বাংলাদেশের কারাগারে ব্যাপক শ্রেণিভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ, প্রতিবেদনে উঠে এল উদ্বেগজনক চিত্র

ঢাকা, ২০ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশের কারাগার ব্যবস্থা ক্রমশ এক গভীর বৈষম্যমূলক কাঠামোয় পরিণত হয়েছে, যেখানে ধনী ও প্রভাবশালী…

ByByNews Desk Jun 20, 2026
Scroll to Top