News Flash

  • Home
  • প্রধান খবর
  • (Update) অশোকধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্ট, মৃত ৭; আহত ১৩-এর বেশি, নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ
Image

(Update) অশোকধাম মন্দিরে ভয়াবহ পদপিষ্ট, মৃত ৭; আহত ১৩-এর বেশি, নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ

পটনা, ১৭ আগস্ট (আইএএনএস): শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার বিহারের লখিসরাই জেলার বিখ্যাত অশোকধাম মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনায় অন্তত সাতজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৩ জনেরও বেশি। সোমবার ভোরে অশোকধাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে মন্দিরের দিকে যাওয়ার পথে বিপুল সংখ্যক ভক্তের ভিড়ের মধ্যে আচমকা একটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার গুজব ছড়িয়ে পড়লে ভক্তরা এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন এবং পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।

লখিসরাইয়ের জেলা শাসক শৈলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ভিড় আচমকাই অত্যন্ত বেড়ে যায়। অশোকধাম হল্টের কাছে পুণ্যার্থীদের দীর্ঘ লাইন পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় দুটি ট্রেনও সেখানে এসে দাঁড়িয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও ঘন হয়ে ওঠে। আচমকা একটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ার পর সেটিতে বিদ্যুৎ রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত পুণ্যার্থীরা পালানোর চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয় এবং অনেকে মাটিতে পড়ে যান। তাঁদের উপর দিয়ে ভিড় চলে যাওয়ায় একাধিক মানুষ গুরুতরভাবে আহত হন।

ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা এবং অন্যান্য পুণ্যার্থীরা দ্রুত উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। আহতদের লখিসরাই সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত নিহতদের মধ্যে মনমালা দেবী (৪৪), রিঙ্কু দেবী (৫০), হেমলতা দেবী (৫৫) এবং ললিতা দেবীর পরিচয় পাওয়া গেছে। মনমালা দেবী লখিসরাইয়ের বারাহিয়ার ইন্দ টোলার বাসিন্দা এবং নিরঞ্জন কুমারের স্ত্রী। রিঙ্কু দেবী মুঙ্গেরের ফারদা, সাফিয়াসরাই এলাকার বাসিন্দা এবং নীরজ যাদবের স্ত্রী। হেমলতা দেবী লখিসরাইয়ের হলসি এলাকার কৈন্দি প্রতাপপুরের বাসিন্দা এবং সুরেন্দ্র যাদবের স্ত্রী। ললিতা দেবীও হলসির প্রতাপপুরের বাসিন্দা এবং গোরেলাল যাদবের স্ত্রী। বাকি তিন মৃতের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনাটি ঘটে শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার। এই উপলক্ষে অশোকধাম মন্দিরে জলাভিষেক ও পুজো দিতে ভোর থেকেই হাজার হাজার পুণ্যার্থী জড়ো হয়েছিলেন। অশোকধাম মন্দির শ্রী ইন্দ্রদামনেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। মন্দিরের বিশাল শিবলিঙ্গের জন্য এটি বিহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান। বিশেষ করে শ্রাবণ মাসের সোমবারগুলিতে এখানে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়।

জেলা শাসক শৈলেন্দ্র কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে দুটি ট্রেন এসে পৌঁছনোর পর পুণ্যার্থীর সংখ্যা আচমকা বেড়ে যায়। প্রবল ভিড়ের চাপে মন্দিরের বাইরে ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়া এবং তা থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ফলে পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায় এবং পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। সোশ্যাল মিডিয়া ‘এক্স’-এ তিনি ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই দুর্ঘটনায় পুণ্যার্থীদের মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও প্রার্থনা করেন তিনি।

অশোকধাম মন্দিরের পদপিষ্টের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে বিহার সরকার। আহতদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

বিহারের মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাটি মন্দির চত্বরে নয়, মন্দিরের বাইরের রাস্তায় ঘটেছে। একটি খুঁটি ও বিদ্যুতের তার পড়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকেই আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

সিনহা জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং আহতদের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে যাঁদের গাফিলতি বা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। দুর্ঘটনার পর তিনি পটনা থেকে লখিসরাইয়ের উদ্দেশে রওনা হয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার কথা জানান।

তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ মন্দিরে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল এবং তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। প্রায় এক ঘণ্টা পর, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পরিস্থিতি আচমকা বদলে যায়।

অশোকধাম মন্দিরের পদপিষ্টের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে ‘এক্স’-এ জানানো হয়েছে, লখিসরাইয়ে পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণহানির খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করছে বলেও জানানো হয়েছে।

ঘটনায় দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। মুঙ্গেরের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং ওরফে লালন সিং জানান, শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার অশোকধাম মন্দিরে আচমকা ভিড় বেড়ে যায়। সেই সময় বিদ্যুতের তার পড়ে যাওয়া, বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিই পুণ্যার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে এবং পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানও ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক ও অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে উল্লেখ করেছেন। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

বিহারের মন্ত্রী নিশান্ত কুমারও শোক প্রকাশ করে বলেন, এই ঘটনায় তাঁর হৃদয় ভারাক্রান্ত। নিহতদের আত্মার শান্তি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলিকে এই কঠিন সময়ে শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মন্দির চত্বরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

বিহার বিজেপির সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। তাঁর দাবি, বিহার সরকার ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তদন্তে যাঁদের দায়ী পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। আহতদের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর উপস্থিতি, দুটি ট্রেনের আগমন এবং আচমকা বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া আতঙ্ক—সবকিছু মিলিয়েই কীভাবে এই মর্মান্তিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অশোকধাম মন্দিরের সঙ্গে পাল যুগের একটি বিশাল শিবলিঙ্গের ঐতিহাসিক যোগ রয়েছে বলে জানা যায়। শ্রাবণ মাসে বিশেষ করে সোমবারগুলিতে এখানে ভক্তদের ঢল নামে। এদিনও জলাভিষেকের জন্য ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ মন্দিরের পথে ছিলেন। সেই বিপুল ভিড়ের মধ্যেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

Releated Posts

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ, নয়াদিল্লি জেলায় জারি ১৬৩ ধারা

নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র…

ByByTaniya Chakraborty Oct 2, 2026

ফর্ম ৬ বদলের নির্দেশ কে দিয়েছিল, কমিশনকে প্রশ্ন রাহুলের

অভিজিৎ রায় চৌধুরী নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর: ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অনলাইন ফর্ম ৬-এ বিতর্কিত পরিবর্তন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের…

ByBySandeep Biswas Oct 1, 2026

ভারত-শ্রীলঙ্কা সম্পর্ক জোরদারে জয়শঙ্করের সঙ্গে টিলভিন সিলভার বৈঠক

নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): ভারত-শ্রীলঙ্কার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করলেন…

ByByNews Desk Oct 1, 2026

স্বচ্ছ ভারত মিশন: স্যানিটেশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে এআই, ইভি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): স্বচ্ছ ভারত মিশনের ১২তম বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন শহরে স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলতে…

ByByNews Desk Oct 1, 2026
Scroll to Top