বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য
বিদায় নিয়েছে ২০২৪, আজ থেকে শুরু হয়েছে ২০২৫। কিন্তু সর্বত্রই ব্যবসা বাণিজ্যে ভাঁটার টান পড়ে রয়েছে। বছরের বাকি দিন কেমন যাবে এই ভাবনায় রয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা।
ত্রিপুরা রাজ্যের বাণিজ্যেক শহর নামে পরিচিত ধর্মনগর থেকে এক সময়ে চাল ডাল তেল, লোহা লক্কর সহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী গোটা উত্তর ত্রিপুরা জেলায় পাঠানো হত। অন্যদিকে কিছু কিছু পণ্য সামগ্রী রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানেও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাণিজ্যিক শহর ধর্মনগরের ব্যবসা বাণিজ্যের হাল অত্যন্ত খারাপ। ধর্মনগরের রপ্তানি বাণিজ্য পূর্বের গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। এমনকি রাজ্যের উত্তর জেলার ধর্মনগর, কাঞ্চনপুর, পানিসাগর, কদমতলা বড় বাজারগুলির পাশাপাশি ছোট বাজারগুলির অবস্থাও ক্রমশ অবনতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এদিকে, মফস্বল এলাকায় বিভিন্ন বাজারে দোকানিরা দোকান সাজিয়ে বসে থাকলেও সারাদিনে ক্রেতাদের দেখা মেলে না। অনেক দিন এমনও হয় যেদিন ধর্মনগর শহর সন্ধ্যা হতেই ফাঁকা হয়ে যায়। কিন্তু বিগত বছর আগে অবধিও ধর্মনগর শহর রাত জাগত। গভীর রাত পর্যন্ত শহরের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলি খোলা রাখতে হত। দোকানে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যেত। শীত গ্রীষ্ম বর্ষা একই তালে ব্যবসা বাণিজ্য চলত। কিন্তু বর্তমান সময়ে এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসার অবস্থা খারাপ হওয়ার ফলে ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে।
পূর্বে ধর্মনগরে বাজারগুলিতে সাপ্তাহিক হাটবার বসতো। বাজারগুলিতে দিনরাতে ক্রেতাদের আনাগোনা ছিল। গোটা বছরের পাশাপাশি শীতের মরশুমে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্যে ভাল চলত। দেদার শীত বস্ত্র বিক্রি হত। কিন্তু এবছর জেলার বিভিন্ন বাজার ফাঁকা। এবছর শীতের মরশুম শুরু হলেও বাজারগুলিতে মন্দার ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমনকি সাপ্তাহিক হাটবারের দিনেও বাজারগুলি ফাঁকা থাকছে। সন্ধ্যা হতেই বাজার জনশূন্য হয়ে পড়ছে।
এদিকে, উত্তর জেলার বাজারগুলির অন্যতম আকর্ষণ ছিল পশু হাট। ওই পশু হাটগুলিতে জেলার বিভিন্ন এলাকার পশু পালকরা গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি নিয়ে আসতো বেচাকেনার জন্য। জেলার অর্থনীতিতে পশু হাটগুলির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বর্তমানে পশু ব্যবসায়ীরা ক্রয় বিক্রয়ে নানা সমস্যার মধ্যে পড়ছে। তার জন্য অনেক ব্যবসায়ী এই ব্যবসা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বাজারগুলিতে মন্দার প্রভাব স্পষ্ট।
এদিকে, গত বছরের ভয়াবহ বন্যার প্রভাব এখন ও বিদ্যমান। বন্যার ফলে কৃষিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। বন্যার পরবর্তী সময় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষকরা সময় মতো চাষ আবাদ না করতে পারায় আর্থিক দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে তাদের। শহরের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীর বক্তব্য হলো একসময় তাদের বেচাকেনা খুব ভালো ছিল। মহাজনদের সাথে লেনদেনও ভালো হতো। কিন্তু বেচাকেনা খারাপ হবার ফলে মহাজন দের সাথে ঠিকমত লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে না। জেলার বিভিন্ন বাজারে মন্দার ভাব সৃষ্টি হওয়ার কারণে বিশেষত ছোট ছোট দোকানদাররা ব্যবসায়ীরা সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে।
এক দোকানদার জানান অর্থ উপার্জন কমে যাওয়ার কারণে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। ফলে নতুন বছর কেমন যাবে এই এই ভাবনায় বছরে র প্রথম দিনেই ক্রেতাবিক্রেতা এবং সাধারন মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।



















