নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ৩ মার্চ: খোয়াইতে নাবালিকার বেআইনী বিয়ে আটকে দিল খোয়াই জেলার চাইল্ড প্রোটাকশন ইউনিটের কর্মীরা। নাবালিকাকে জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলো।
আইনের নিয়মানুযায়ী ছেলেদের একুশ বছর বয়স এবং মেয়েদের আঠারো বছর বয়স হওয়ার আগে কোন নাবালক ও নাবালিকার বিয়ে হওয়া আইন বিরুদ্ধ। প্রচলিত আইনে তা সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা আছে। খোয়াই জেলা প্রশাসন ও খোয়াই জেলা সমাজ কল্যাণ সমাজ শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে প্রতিদিনই নাবালক ও নাবালিকা বিবাহরোধ করার জন্য সচেতনতামূলক সভা চলছে।
সরকারের এতকিছু প্রচারণা, সচেতনতা কর্মসূচী ও আইন কানুনের বিধিনিষেধ সত্বেও একাংশের অভিভাবক নাবালক ছেলে ও নাবালিকা মেয়েদের বিয়ের উদ্যোগ আয়োজন থেকে সরে আসতে চাইছেন না। খোয়াইয়ে নাবালিকা মেয়ের বিয়ের হার ক্রমেই ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অভিভাবকদের আইন কানুন ও ছেলে-মেয়ের উপযুক্ত বয়স হবার আগে বিয়ে হলে শারীরিক সমস্যার বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক অবহিত করা হচ্ছে।
এরপর একাংশের অভিভাবকরা পিছিয়ে আসছে না। এই সকল অভিভাবকদের কন্যা সন্তান মানেই মাথার বোঝা ভেবে বিয়ে দিয়ে দায়মুক্ত হতে চাইছে।
শনিবারও চাম্পাহাওর থানাধীন পশ্চিম তকচাইয়ার জামটিলা এলাকায় ১৩ বছরের নাবালিকা মেয়ের বিয়ে আটকে দিয়েছে জেলা চাইল্ড প্রোটাকশন ইউনিটের কর্মীরা।
আগামী সপ্তাহে ১৩ বছরের নাবালিকার বিয়ে হবার কথা ছিল খোয়াই চেবরী এলাকায়। বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত খবরের ভিত্তিতে এদিন জেলা চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটের কর্মীরা পশ্চিম তকচাইয়ার জামটিলা এলাকায় নাবালিকা মেয়ের বিয়ে বাড়ীতে যায়।
পরিবারের লোকজনদের সাথে কথাবার্তা বলে খবরের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটের লোকজন।তখনই নাবালিকা মেয়ে সহ বাড়ীর লোকজনদের সাথে খোলাখুলি আলোচনায় চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটের কর্মীরা তাদের এই মর্মে বুঝাতে সক্ষম হন যে, আঠারো বছর বয়স হওয়ার আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া নিয়মনীতির নির্দেশিকা অনুসারে মোটেই আইনসিদ্ধ নয়। এরপরেই নাবালিকা মেয়েটির বিয়ে বাতিল করে দেয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের লোকজনেরা।
নাবালিকাকে খোয়াই জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিনের অভিযানে অংশ গ্রহণ করেন চাম্পাহাওর থানার পুলিশ।চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটের সোমা আচার্জী, প্রশান্ত দেববর্মা ও পাপন শুক্ল দাস সহ অন্যান্য। তবে এরকম অনেক বিয়ের উদ্যোগ আয়োজনই আটকাচ্ছে চাইল্ড প্রোটেকশন ইউনিটের কর্মীরা।খবর পেলেই ওরা ছুটে যাচ্ছে অকূস্থলে।ছেলে মেয়ের কাগজপত্র, জন্মের সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখে রদ করে দিচ্ছে নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে।


















