News Flash

  • Home
  • সম্পাদকীয়
  • কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে হিন্দুধর্মের নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের ৫৫তম আচার্য্য সন্তদাস কাঠিয়াবাবার ইতিহাস
Image

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে হিন্দুধর্মের নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের ৫৫তম আচার্য্য সন্তদাস কাঠিয়াবাবার ইতিহাস

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি থেকে নিম্বার্ক সম্প্রদায়ের ৫৫তম আচার্য্য সন্তদাস কাঠিয়াবাবার ইতিহাস

ভারতবর্ষ এক রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক ধর্মীয় স্থান হিসেবে সুপরিচিত। এই স্থানে জরিয়ে রয়েছে নানান ধর্মের অনুশীলন, রীতিনীতি ও সংস্কৃতির ইতিহাস। তেমনই হল হিন্দুধর্মের চতুঃ সম্প্রদায় নিম্বার্ক সম্প্রদায়। আর ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এই সম্প্রদায়কে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের লোক তারাকিশোর চৌধুরী যিনি পরবর্তীতে সন্তদাস কাঠিয়াবাবা নামে পরিচিতি লাভ করেন। তারাকিশোর চৌধুরী ১৮৫৯ সালে জন্ম গ্ৰহণ করেন বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলার বামৈ গ্ৰামে সম্ভান্ত জমিদার ব্রাহ্মণ চৌধুরী পরিবারে। ১৮৭৪ খ্রীষ্টাব্দ ১৪ বছর বয়সে সিলেট শহরের গভর্মেন্ট হাইস্কুল হইতে প্রবেশিকা পরীক্ষায় তৎক্ষালিন আসাম প্রদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করিয়া তিনি ১৫  টাকা বৃত্তি পেয়ে ছিলেন। তারপর মেট্রোপলিটন কলেজে ভর্তি হয়ে এফ এ পরীক্ষায় অতি উচ্চ স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। ১৮৮৩ সনে বি,এল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৮৮৫ সালে সিলেট বারে আইন পেশায় যোগ দেন। চার বছর সিলেট থাকার পর কলকাতা হাইকোর্টে আইন পেশায় যোগ দেন। কলকাতা হাইকোর্টে তার যশ খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতা হাইকোর্টের শ্রেষ্ট আইনজীবি স্যার রাসবিহারী ঘোষের পরেই ছিল এডভোকেট তারাকিশোর চৌধুরীর স্থান। ১৯১২ সালে বৃটিশ সরকার কলকাতা হাইকোর্টের এটর্ণী জেনারেল পদে নিয়োগ দেন। তিনি হলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম বাঙালি এটর্নি জেনারেল। ১৯১৫ সালে আগষ্ট মাসে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ পান। বিচারপতির পদ যোগদান করেই পদত্যাগ করেন। ১৯১৫ সালে ত্রিশ বছরের ওকালতি পেশা পরিত্যাগ করে স্ত্রীসহ বৃন্দাবনের উদ্দেশ্য রওয়ানা দেন।কলকাতা শহরের বাসা বাড়ী, ধন সম্পদ সবকিছু মানুষকে দান করে যান।অনেক ঋনী লোকের ঋন পরিশোধ করে যান। কলকাতা শহর থেকে বৃন্দাবন যাবার সময় রেলের ভাড়া পর্যন্ত ছিল না। কলকাতার আইনজীবি, ব্যবসায়ী,ছাত্রযুবক, বৃদ্ধ,নারী মিছিল সহকারে তারাকিশোর চৌধুরীকে বিদায় জানান। বৃন্দাবনে সন্নাসী হবার পর নাম হয় মহারাজ সন্তদাস কাঠিয়াবাবা। মহারাজ বৃন্দাবনে আসার পর দিনরাত কেউ ঘুমাতে দেখেন নাই,সব সময় ধ্যান নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।তিনি সামান্য আহার করতেন। ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় মেলা হল কুম্ভ মেলা। এই মেলায় সারা ভারত থেকে কোটি লোকের আগমন ঘটে। কুম্ভ মেলার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এই পদেও তিনি প্রথম বাঙালি। ১৯৩১ সালে হাওড়ার শিবপুরে একটি আশ্রম প্রতিষ্টা করেন। ১৯৩৪ সালের জুলাই মাসে সিলেট শহরে নিম্বাক আশ্রম প্রতিষ্টা করেন তারাকিশোর চৌধুরী তথা সন্তদাসকাঠিয়াবাবা। ১৯৩৫ সালের ৮ নভেম্বর সন্তদাসজী মহারাজ বৃন্দাবনে দেহত্যাগ করেন।

Releated Posts

১২৬২ থেকে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার রানাঘাটে পূজিত হচ্ছেন বুড়ো মা

শিবানী বন্দ্যোপাধ্যায় দেবী দুর্গার এই পুজোর সূচনা সেই ১২৬২ খ্রিষ্টাব্দে। স্বাভাবিকভাবেই প্রাচীনত্বের নিরিখে এ পুজো হার মানাতে পারে…

ByByadmin Sep 27, 2025

দুই দিনের শিশুর বিরল রোগ, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন ফিরে দিলেন ডাঃ অনিরুদ্ধ বসাক

আগরতলা, ১৫ মার্চ: মাত্র দুইদিনের শিশুর পেটের বাইরে থাকা অন্ত্রকে স্বাভাবিক করে তুললেন ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু…

ByByadmin Mar 15, 2025

সহজসাধ্য উদ্ভাবনে ভাবিকালে শক্তির যোগানদার ভারতের যুগান্তকারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বা

নয়াদিল্লি, ২০২৫: ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বায় রূপান্তরণমূলক বিপ্লবের সাক্ষী থাকছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্ব। ভারতের…

ByByadmin Feb 13, 2025

বিকাশের নতুন যুগকে আলিঙ্গন, উন্নয়নের ৫০ বছর উদযাপন করছে উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্ষদ (এনইসি)

আগরতলা, ২০ ডিসেম্বর ২০২৪ : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একবার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, “দেশের পশ্চিম অঞ্চল যদি…

ByByadmin Dec 20, 2024

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top