আগরতলা, ২১ মে (হি. স.) : খোয়াই নদীতে দাদুর সাথে স্নান করতে গিয়ে জলে তলিয়ে গেল তিন শিশু। রবিবার সকাল সাড়ে এগারোটা নাগাদ ওই ঘটনায় খোয়াইয়ের পহরমোড়া ব্রিজ সংলগ্ন তাঁত চৌমুহনী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দুই শিশুকে নদী থেকে উদ্ধার করে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর এক শিশুকন্যাকে খোঁজে না পেয়ে প্রতিবেশীরা খোয়াই দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর কর্মীদের খবর পাঠিয়েছিল। টানা দেড় ঘন্টা প্রচেষ্টার পর খোয়াই নদী থেকে শিশু কন্যার মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। দুপুরে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের সদ্যসদের হাতে তিন শিশুর মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে।
জনৈক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, গ্রীস্মের ছুটিতে খোয়াইয়ের পহরমোড়া ব্রিজ সংলগ্ন তাঁত চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা গোপাল নম:র দুই মেয়ে মৌটুসী দাস(১২), সপ্তদীপ নম:(৮) নামে সন্তানদের নিয়ে বেড়াতে এসেছিল। আজ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাবার কথা ছিল। কিন্তু দাদু, মামা-মামির আবদারে আজ তারা মামার বাড়িতে থেকে গিয়েছিল। রবিবার সকাল দশটা নাগাদ দাদুর সাথে মৌটুসী, সপ্তদীপ, বাবলি রায় সহ ওই পাড়ার অপর এক শিশু নদীতে স্নান করতে গিয়েছিল। কিন্তু নদীর জল বেশি থাকার ফলে চার শিশু নদীর জলে তলিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক গোপালনম: এক শিশুকে উদ্ধার করতে পারলেও অন্যদের আর উদ্ধার করতে পারেননি। গোপাল নম:র চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে নদী থেকে সপ্তদীপ ও বাবলি নামে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। প্রতিবেশীরা দুই শিশুকে খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষনা করেন।প্রতিবেশীরা অপর শিশু মৌটুসীকে উদ্বার করতে না পেরে খোয়াই দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবেলা বাহিনীর কর্মীদের খবর পাঠিয়েছিল।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন খোয়াই থানার ওসি সহ মহকুমা শাসক বিজয় কুমার সিনহা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকগণ। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর টানা দেড় ঘন্টা প্রচেষ্টার পর খোয়াই নদী থেকে মৌটুসীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
জনৈক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন,সকালে খবর আসে খোয়াই নদীতে স্নান করতে গিয়ে তিন শিশু জলে তলিয়ে গেছে।ওই খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন খোয়াই থানার ওসি সহ মহকুমা শাসক বিজয় কুমার সিনহা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর আধিকারিকগণ।মৃত তিন শিশু হলো মোহরছড়ার বাসিন্দা মহাপ্রভু দাসের কন্যা সন্তান মৌটুসী দাস(১২), বিশালগড়ের বাসিন্দা বাপি নম:র পুত্র সন্তান সপ্তদীপ নম:(৮), ও ওই পাড়ার বাসিন্দা রঞ্জিত রায়ের বাড়ি কন্যা বাবলি রায়(১১) এর মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৌটুসি এবং সপ্তদীপ তারা তাদের মায়ের সাথে দাদু গোপাল নম: এর বাড়িতে বেড়াতে আসেছিল। দুপুরে ময়নাতদন্তের পর তিন শিশুর মৃতদেহ তুলে দেওয়া হয়েছে পরিবারের লোকদের হাতে বলে জানান তিনি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা তিন অবুঝ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ভীষণভাবে মর্মাহত। সন্তানহারা পরিবার-পরিজনদের প্রতি তিনি গভীরভাবে সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেছেন মৃত শিশুদের পরিবারকে বিয়োগ ব্যথা সহ্য করার শক্তি প্রদানের জন্য। তিনি সকল অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি আরো একটু বেশি যত্নবান হওয়ার জন্য।

