আগরতলা, ১ জানুয়ারি (হি. স.) : ত্রিপুরা মন্ত্রিসভার সদস্য তথা শাসক জোট শরিক আইপিএফটি-র সভাপতি নরেন্দ্র চন্দ্র জমাতিয়া প্রয়াত হয়েছেন। সরকারী নথি অনুযায়ী মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩. কিন্তু, তাঁর পরিবারের দাবি, তিনি ৮০ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে জি বি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ দুপুর পৌনে তিনটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে আগামীকাল সরকারি ছুটি এবং তিনদিন শোক পালন করা হবে বলে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে ত্রিপুরার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর(ডা:) মানিক সাহা। আগামীকাল তেলিয়ামুড়া মহকুমায় মহারাণী-টে পৈতৃক ভিটেতে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
রাজ্যপাল সত্যদেও নারাইন আর্য রাজস্বমন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় রাজ্যপাল সত্যদেও নারাইন আর্য বলেন, ‘ত্রিপুরা সরকারের রাজস্বমন্ত্রী ও আইটিএফটি’র সভাপতি নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মার আকস্মিক প্রয়াণের সংবাদ শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। রাজস্বমন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা তার দুর্বল স্বাস্থ্য সত্বেও ত্রিপুরী জনগণের কেন্দ্রবিন্দু এবং অভিজ্ঞ নেতা ছিলেন। সম্প্রতি তার সমালোচকদের সাথে লড়াই করে দলে তার অবস্থান ধরে রেখেছেন।
রাজ্যপাল বলেন, তাঁর মৃত্যুতে এমন এক যুগের অবসান হল যা পূরণ করা অসম্ভব। ঈশ্বর তাঁর বিদেহী আত্মার স্বপ্ন পূরণ করুক এবং তাঁর চরণে স্থান দান করুক।’ রাজ্যপাল রাজস্বমন্ত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই দুঃসময়ে ধৈর্য্য ও শক্তি দান করার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন।
এদিন রাজ্য মন্ত্রিসভায় বরিষ্ঠ সহকর্মী প্রয়াত নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মার বাসভবনে গিয়ে অন্তিম শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁর বিয়োগ ব্যথায় শোকাহত পরিবার প্রিয়জনের সাথে আমিও সমব্যথী। ঈশ্বরের কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার সদগতি কামনা করি।
ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, মন্ত্রিসভায় বরিষ্ঠ সদস্য, সুদক্ষ রাজনীতিবিদ নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মার প্রয়াণ এক বর্নময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। রাজ্য মন্ত্রিসভার বিভিন্ন বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে দুরদর্শীতা ও বিচক্ষণতার ছাপ রেখে গেছেন তিনি। জনকল্যানে সমর্পিত ভাবনায় নিষ্ঠাপূর্বক দায়িত্ব সম্পাদনে এক উজ্জ্বলতম প্রতীক ছিলেন তিনি। তাঁর বাসভবনে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেছি ও শোক সন্তপ্ত পরিজনদের সহমর্মিতা জানিয়েছি। পরম মঙ্গলময় তাঁদের এই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠার শক্তি প্রদান করুন, প্রার্থনা করেন বিপ্লব দেব।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী, তিপরা মথার চেয়ারম্যান তথা এমডিসি প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ, ত্রিপুরা মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যগণ, ত্রিপুরা বিধানসভার সমস্ত সদস্যগণ নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মার প্রয়ানে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। আগামীকাল তাঁর মরদেহ প্রথমে সচিবালয়ে নেওয়া হবে। তারপর বিধানসভায় তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। সেখান থেকে পৈতৃক ভিটে মহারাণীতে তাঁর মরদেহ নেওয়া হবে এবং সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।



















