News Flash

  • Home
  • মুখ্য খবর
  • ত্রিপুরায় মিশন অমৃত সরোবর প্রকল্পের কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী
Image

ত্রিপুরায় মিশন অমৃত সরোবর প্রকল্পের কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : গ্রামীন অর্থনৈতিক বিকাশে গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্যে রূপায়িত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের জনকল্যানমূলক প্রকল্পগুলি গ্রামীন এলাকার জনগনের আর্থসামাজিক মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা নেয়। আজ সচিবালয়ের ২নং সভাকক্ষে গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের পর্যালোচনা সভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।

ত্রিপুরায় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পগুলির কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের গ্রামীন এলাকার জনগনের সার্বিক বিকাশে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলি দ্রুত রূপায়নের পাশাপাশি যে সমস্ত কাজ অসম্পুর্ন রয়েছে তা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে। ত্রিপুরায় মিশন অমৃত সরোবর প্রকল্পে কাজের গুনমান বজায় রাখার পাশাপাশি গ্রামোন্নয়ন দপ্তরকে বন দপ্তরের সাথে সমন্বয় রেখে দ্রুত শেষ করার উপর মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এক্ষেত্রে নিয়মিত পর্যবেক্ষনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করার জন্যও তিনি পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, ত্রিপুরায় ৯৬৪টি অমৃত সরোবর করার জন্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৮ আগষ্ট পর্যন্ত ত্রিপুরায় ৭৫টি অমৃত সরোবরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই ৭৫টি অমৃত সরোবরের মধ্যে ২৫টি নতুন জলাশয় ও ৫০টি জলাশয়কে সংস্কার কাজ করা হয়েছে।
সভায় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী তথা উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা বলেন, গ্রামীন এলাকায় যে সমস্ত অসম্পূর্ন কাজ রয়েছে সেইগুলি আগামী ডিসেম্বর ২০২২-এর মধ্যে শেষ করতে হবে। তারজন্য দপ্তরের আধিকারিকদের আরও বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরার ১২টি অ্যাশপিরেশনাল ব্লক এলাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সেচ, প্রানীপালন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে তা জনসমক্ষে তুলে ধরা প্রয়োজন। এর ফলে জনগন সরকারের জনকল্যানমূলক কাজ সম্পর্কে আরও বেশি অবগত হবে।
পর্যালোচনা সভায় গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের বিশেষ সচিব ড. সন্দীপ আর রাঠোর গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে ত্রিপুরায় রূপায়িত বিভিন্ন প্রকল্প সমূহের সাফল্য, অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বিভিন্ন নতুন উদ্যোগ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন। এম জি এন রেগা, মিশন অমৃত সরোবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা- গ্রামীন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ন্যাশনাল রুরবান মিশন, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা জাতীয় গ্রামীন জীবিকা মিশন, দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীন কৌশল্য যোজনা, সাংসদ আদর্শ গ্রাম যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা গ্রাম সমৃদ্ধি যোজনা সহ পঞ্চায়েত দপ্তরের কাজের অগ্রগতি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ সচিব জানান, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে এমজিএন রেগায় ৪২৬.১৮ লক্ষ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। গড়ে ৭২ শ্রমদিবসের সৃষ্টি হয়েছে। ১০০ দিনের কাজ সম্পন্ন করেছে ১,০৯,২১৭টি পরিবার। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে এখন পর্যন্ত ১৩৩.১৯ লক্ষ শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে। গড়ে ৩৩ শ্রম দিবস সৃষ্টি হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৭.৮৫ গড় শ্রমদিবস নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ধলাই জেলা।
সভায় বিশেষ সচিব জানান, ত্রিপুরার ১,৮৬৫টি পরিবার এমজিএন রেগায় ১০০ দিনের কাজ পেয়েছে। এমজিএন রেগায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত কাজ শেষ করার হার ৯১.৪৩ শতাংশ। ৬১ শতাংশ আধার লিংক ভিত্তিক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার করা হয়েছে।

সাথে তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীন প্রকল্পে ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১,৫৬,৫২৮টি ঘর নির্মানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বর্ষে কাঁচা ঘরের সংজ্ঞা পরিবর্তনের পর ত্রিপুরায় এসইসি তালিকা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীন প্রকল্পে ১,৫৯,৯১৩টি বরাদ্ধকৃত ঘরের মধ্যে ৩০ আগষ্ট ২০২২ পর্যন্ত ১,১২,৪৫৪ টি ঘর নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থ বর্ষে কাঁচা ঘরের সংজ্ঞা পরিবর্তনের পর ত্রিপুরায় এসইসি তালিকা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীন প্রকল্পে ১,৫৯,৯১৩টি বরাদ্ধকৃত ঘরের মধ্যে ৩০ আগষ্ট ২০২২ পর্যন্ত ১,১২,৪৫৪ টি ঘর নির্মানের কাজ শেষ হয়েছে।
এদিন ত্রিপুরা গ্রামীন জীবিকা মিশনের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক বিশাল কুমার জানান, রাজ্যের ৩.৪ লক্ষ মহিলাকে স্ব সহায়ক গোষ্ঠীতে সংগঠিত করা হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ৬৭৯২টি স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীকে উন্নীত করা হয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীকে প্রায় ২১৪.২৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ প্রদান করা হয়েছে যা লক্ষ্যমাত্রার অধিক বলে জানান মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক।তিনি বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৩৯৪৯টি মহিলা পরিচালিত স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীকে উন্নীত করা হয়েছে। মহিলা স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীকে নিয়ে ১৪১টি নতুন গ্রামীন সংস্থা (ভিলেজ অর্গানাইজেশন) গঠন করা হয়েছে। তাছাড়াও তিনি দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনা-জাতীয় গ্রামীন জীবিকা মিশনের নতুন উদ্যোগসমূহ সহ দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীন কৌশল যোজনায় রুপায়িত কর্মসূচি সমূহ নিয়ে সভায় আলোচনা করেন।
পর্যালোচনাসভায় পঞ্চায়েত দপ্তরের বিভিন্ন কাজের বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সহায়ক প্রকল্প সহ চিফ মিনিস্টারস ফ্ল্যাগশীপ কর্মসূচি যেমন মুখ্যমন্ত্রী মডেল ভিলেজ স্কিম, মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা গ্রামীন এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। সভায় জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর যোজনা-গ্রামীন প্রকল্পে ৭৩৩২ জন গ্রামীন দোকানদারকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে।

Releated Posts

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক উদ্বোধন করা নেশামুক্ত যুব বিকশিত ভারত সংকল্প অভিযান এর ভার্চুয়াল সূচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন রাজ্যপাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ আগস্ট: আজ সকালে ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের কনফারেন্স হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বারা…

ByByReshmi Debnath Aug 2, 2026

ড. বি.আর. আম্বেদকর স্মৃতি ছাত্রী নিবাসে খাবার আত্মসাতের অভিযোগ, তিন রাঁধুনিকে  আটক করে বিক্ষোভ ছাত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ আগস্ট: আগরতলার জগন্নাথ বাড়ি সংলগ্ন ড. বি.আর. আম্বেদকর স্মৃতি ছাত্রী নিবাসে ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দ…

ByByReshmi Debnath Aug 2, 2026

সিপিআইএম ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি করছে, অভিযোগ বিজেপির

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ আগস্ট:  গত কয়েকদিন ধরে সিপিআইএমের একাংশ নেতৃত্ব বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে ধর্মীয় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা…

ByByReshmi Debnath Aug 2, 2026

রাজনীতি থেকে সরে শিক্ষকতায় প্রত্যাবর্তন, এমবিবি স্কুলে যোগ দিলেন প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা

আগরতলা, ২ আগস্ট: সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে এসে আবারও শিক্ষকতার পেশায় ফিরলেন রাজ্যের প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা।…

ByByReshmi Debnath Aug 2, 2026
Scroll to Top