আগরতলা, ৩ মার্চ (হি. স.) : যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে পাঠরত ত্রিপুরার ৩ জন ছাত্রী আজ ত্রিপুরায় ফিরেছেন। আজ এমবিবি বিমানবন্দরে মেঘা ত্রিবেদী, জেসমিন দেববর্মা ও উপাসনা বিশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। তাঁদের মধ্যে দুইজন আজ সচিবালয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সাথে সৌজন্যমূলক সাক্ষাত্কারে মিলিত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পুস্পস্তবক দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের চোখেমুখে এখনো ইউক্রেনে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির বিভীষিকা স্পষ্ট নজরে আসছে। দুজনেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে বলেন, সাইরেনের আওয়াজ এখনো কানে বাজছে। ভারত সরকারের সহায়তায় বাড়ি ফিরে আসার জন্য তাঁরা ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্যমুলক সাক্ষাৎকারের সময় দুইজন ছাত্রীর মা-বাবা এবং অন্যান্য পরিজনরাও উপস্থিত ছিলেন। ইউক্রেনে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তারা মুখ্যমন্ত্রীকে অবগত করেন। সৌজন্যমুলক সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের বিভিন্ন সীমান্তে আসা ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার সাথে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মানবিক পদক্ষেপ। প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় কম সময়ের মধ্যেই ভারতীয় নাগরিকগণ দেশে ফিরে আসছেন। এই মানবিক পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যের অনেক ছাত্রছাত্রী ইউক্রেনে পাঠরত রয়েছে। রাজ্যের অন্য ছাত্রছাত্রীদেরও ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ দিশানির্দেশনা ও বিদেশ মন্ত্রকের নৈপুণ্যতায় ইউক্রেনের সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি থেকে রাজ্যের তিন ছাত্রীকে ত্রিপুরার পুণ্যভূমিতে সুরক্ষিত প্রত্যাবর্তন বাস্তবিক রূপান্তর সম্ভবপর হয়েছে। আজ এমবিবি বিমানবন্দরে মেঘা ত্রিবেদী, জেসমিন দেববর্মা ও উপাসনা বিশ্বাসকে স্বাগত জানিয়েছি। দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিতিকরণের পাশাপাশি দেশের বাইরে অবস্থানরত নাগরিকদের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও উজ্জ্বল দৃষ্টান্তস্বরূপ ভারত সরকারের বিদেশনীতির সুদক্ষতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে, বলেন তিনি।
এদিন ইউক্রেন ফেরত ত্রিপুরার ছাত্রী মেঘ ত্রিবেদী বলেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে অবস্থা খুবই সংকটজনক। নিজ উদ্যোগে বাসে চরে সীমান্তে যেতে হয়েছে আমাদের। কিন্ত সীমান্তের অবস্থাও খুবই খারাপ। তাই, ভীষণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তিনি বলেন, ইউক্রেনে কিছুক্ষণ পরপর সাইরেনের আওয়াজ বাজছে। সেই আওয়াজ বাজতেই আমাদের বাঙ্কারে ঢুকতে হতো। এখনো সেই সাইরেনের আওয়াজ আমাদের কানে বাজছে। জেসমিন দেব্বর্মা বলেন, সময় মতো পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদের অবগত করা হলে সহজে ওই দেশ ছেড়ে আসতে সুবিধা হতো আমাদের। তবে, ভারত সরকারের সহায়তায় আমরা দেশে ফিরতে পেরেছি। তার জন্য তাঁরা ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।



















