নিজস্ব প্রতনিধি, আগরতলা, ৭ জানুয়ারি৷৷ মুখ্যমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গত প্রায় ৪ বছরে রাজ্যে প্রচুর কর্মসংস্থান হয়েছে৷ তবে সবাইকে সরকারি চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়৷ সেক্ষেত্রে বেসরকারি ক্ষেত্রেও চাকরির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে৷ আজ আগরতলায় শ্রম ভবনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জব ফেয়ার (চাকরি মেলা)র উদ্বোধন করে একথা বলেন শ্রম দপ্তরের মন্ত্রী ভগবান চন্দ্র দাস৷ কেন্দ্রীয় সরকারের ন্যাশনাল ক্যারিয়ার সার্ভিস প্রকল্পের আওতায় মডেল ক্যারিয়ার সেন্টার, পশ্চিম জেলা কর্ম বিনিয়োগ ও জনশক্তি পরিকল্পনা দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়৷
রাজ্যের চাকরি প্রত্যাশী বা কর্মপ্রার্থী বেকার যুবক যুবতীদের জন্য বিশেষ সুুযোগ নিয়ে এসেছে পশ্চিম জেলা কর্মবিনিয়োগ ও জনশক্তি পরিকল্পনা দপ্তরের অধীনস্থ মডেল ক্যারিয়ার সেন্টার৷ রাজ্য ও বহির্রাজ্যের মোট ৯টি সংস্থা বিভিন্ন পদে ৪১০ জনকে নিয়োগের জন্য আজ শ্রম কার্যালয়ে জব ফেয়ারের আয়োজন করে৷ এজন্য শ্রম ভবনে সকাল থেকেই ছিলো চাকরি প্রার্থীদের উপস্থিতি৷ উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২০ জলাই বেকার যুবক যুবতীদের কথা মাথায় রেখে ন্যাশনাল সার্ভিস প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ এই প্রকল্পটি ডিরেক্টরেট জেনারেল অব এমপ্লয়মেন্ট, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে৷ এর মাধ্যমে সমস্ত এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্চগুলিকে মডেল ক্যারিয়ার সেন্টারে রূপান্তরিত করা হচ্ছে৷ ন্যাশনাল ক্যারিয়ার সার্ভিস এমনই একটি ক্ষেত্র যার মাধ্যমে বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান ও ক্যারিয়ার গঠন সম্পর্কে বিস্তৃত পরিষেবা দেওয়া হয়৷
এদিন জব ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্রমমন্ত্রী ভগবান চন্দ্র দাস বলেন, কর্মপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ বর্তমান সরকারের সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত লক্ষাধিক কর্মসংস্থান হয়েছে৷ রাজ্যে এখন শিল্প গড়ে উঠছে৷ যেখানে আরও নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে৷ এর পাশাপাশি মহিলাদের স্বশক্তিকরণের প্রক্রিয়া চলছে৷ স্বসহায়ক দল গঠনের মাধ্যমে তাদের রোজগার বাড়ানোর ব্যবস্থা হচ্ছে৷ চাকরির প্রসঙ্গ টেনে শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, এখন ছেলেমেয়েদের মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে৷ তাই জব ফেয়ারে কর্মসংস্থান খুঁজতে অনেক ছেলেমেয়ে আসছে৷ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আগামীতে আরও বড় আকারের জব ফেয়ারের আয়োজন করা হবে৷ আরও বড় বড় কোম্পানী কর্মসংস্থানের সুুযোগ নিয়ে রাজ্যে আসবে৷ আর এই প্রক্রিয়া আগামীতেও চলতে থাকবে৷
শ্রমমন্ত্রী পরামর্শ দেন সময় নষ্ট না করে সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে৷ কারণ সময়ের মূল্য যে দিতে জানে সাফল্য তার কাছে ধরা দেবেই৷
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কর্মবিনিয়োগ ও জনশক্তি পরিকল্পনা দপ্তরের অধিকর্তা অদিতি মজুমদার জব ফেয়ার আয়োজনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আজাদি কা অমৃত মহোৎসব ও ৫০তম পূর্ণরাজ্য দিবসের অংশ হিসেবে এই জব ফেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ যাতে চাকরি প্রার্থী যুবক যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়৷
অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন শ্রম দপ্তরের যুগ্ম কমিশনার বৈজয়ন্ত দাস ও মডেল ক্যারিয়ার সেন্টারের সিনিয়র রিসার্চ অফিসার অনিশ র’ন ভ-াচার্য৷ উপস্থিত ছিলেন শ্রম দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকগণও৷ এদিন জব ফেয়ারে অংশ নেওয়া সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে আর্থ ক্লিন, জেএমবি অটো লিমিটেড, আদিত্য বিড়লা সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, আনন্দ স্পাইস ইণ্ডাস্ট্রি, প্রোগ্রেসিভ অটোমোবাইল প্রাইভেট লিমিটেড, তিরুপতি মোটর্স, অশোক লেল্যাণ্ড, পার্কলাইন হোটেল, ইস্টার্ন কমার্স ও ডেলিভারি প্রাইভেট লিমিটেড৷



















