আগরতলা, ১১ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ ক্ষমতা হারানোর পর চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের জন্য মায়াকান্না করতে দেখা যাচ্ছে বামপন্থী নেতৃবৃন্দের৷ বরখাস্তের শিকার শিক্ষকদের ভবিষ্যতের জন্য পূর্বের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এখন গভীর চিন্তায় পড়েছেন৷ সে কারণেই তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ওই সকল শিক্ষকের চাকরি-সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন৷ লক্ষণীয় বিষয় হল, ওই সমস্যা সমাধানে পুনরায় বাঁকা পথে হাঁটার জন্যই তিনি পরামর্শ দিয়েছেন৷
প্রসঙ্গত, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে শিক্ষক পদে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ভুল নিয়োগনীতি এবং অনিয়মের কারণে ২০১৪ সালে ত্রিপুরা হাইকোর্ট ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিলের আদেশ দিয়েছিল৷ এখন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ গ্রহণ না করে লাগাতার গণ-অবস্থানে বসেছেন৷ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী চাকরিচ্যুত শিক্ষক সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দের কাছে আবেদন করেছেন, সরকার প্রায় ৯,০০০ নতুন চাকরির বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে৷ আপনারা সবাই দয়া করে সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রস্তুতি নিন৷
এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার বলেন, চাকরিচ্যুত ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের সংগঠনগুলো পুনর্নিযুক্তির দাবিতে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে আগরতলা শহরে সিটি সেন্টারের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য গণ-অবস্থান সংগঠিত করছেন৷ এই সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের কাছে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দু-মাসের মধ্যে তিনি কার্যকরী পদক্ষেপ নেবেন৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর প্রদত্ত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্নিযুক্তির কোনও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ সরকার নেয়নি৷ তাঁর কথায়, শীত পড়ছে৷ চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবস্থান চালাচ্ছেন, যা পঞ্চম দিনে পড়েছে৷ তাঁরা অশেষ দুঃখকষ্ট ভোগ করছেন৷
তিনি বলেন, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য আমাদের পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরার পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার যে ১৩ হাজার অশিক্ষক পদ সৃষ্টি করেছিল সেগুলো পুনরুজ্জীবিত করে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের দ্রুততার সাথে নিযুক্তি দিয়ে সমস্যার নিষ্পত্তি করা হোক৷ তাতে স্পষ্ট হয়ে গেছে, চাকরিচ্যুতদের সমস্যা সমাধানে বাঁকা পথেই হাঁটুক সরকার, চাইছেন বিরোধীরা৷ কারণ, ১৩,০০০ অশিক্ষিক পদে নিয়োগের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কোনও নির্দেশ দেয়নি৷ ইতিপূর্বে ওই পদ সৃষ্টির পর আদালতে চ্যালেঞ্জ মামলা হয়েছে৷ ফলে, অনিয়মের সহায়তা নিয়ে ত্রিপুরা সরকার কোনও নিয়োগ করতে চাইছে না৷



















