নিজস্ব প্রতিনিধি, চুরাইবাড়ি, ১০ নভেম্বর৷৷ ভোররাতে রাস্তার পাশ থেকে এক ব্যাংক ম্যানেজারকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে৷ তার ভাড়া বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার৷ উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি কদমতলা শাখার সিন্ডিকেট ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার৷ তার নাম আখা পুনি(৩৪)৷বাড়ি মনিপুরের সেনাপট্টি এলাকায়৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল তারপর বহিঃরাজ্যের শিলচরে রেফার৷ ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে ধর্মনগর থানাধীন সোনারুবাসা এলাকায়৷তবে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে গাড়ি ধাক্কা মেরে ফেলে চলে গেছে নাকি পরিকল্পিতভাবে খুন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে তা এখনো রহস্যজনক৷ ধর্মনগর থানার পুলিশ একটি মামলা হাতে নিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে৷
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার ধর্মনগর থানাধীন জুড়ী ব্রিজ সংলগ্ণ সোনারুবাসা এলাকা থেকে আজ ভোর চারটে নাগাদ বহি রাজ্যের বাসিন্দা এক ব্যাংক ম্যানেজারকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রাস্তার পাশ থেকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়৷ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার বহিঃ রাজ্য মনিপুরের সেনাপট্টি এলাকার বাসিন্দা৷তার নাম আখা পুনি (৩৪) পিতা আক্সা পুনি৷ তিনি কর্মসূত্রে বছর দেরেক পূর্বে কদমতলা থানা এলাকার কদমতলা সিন্ডিকেট ব্যাংকের এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন৷আজ ভোর চারটে নাগাদ ব্যাঙ্ক ম্যানেজার আখা পুনি উনার ব্যাংকের একজন গ্রাহক বরগোল গ্রামের বাসিন্দা বাবুলালকে ফোন করে বলেন উনাকেনা একটি গাড়ি ধাক্কা মেরে রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেছে৷ উনাকে সেই স্থান থেকে হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার জন্য৷
অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার ফোন পেয়ে স্থানীয় যুবক বাবুলাল তড়িঘড়ি বাইক নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাঙ্ক ম্যানেজার আখা পুনিকে রাস্তার পাশের খাদ থেকে তুলে দমকলকে খবর দেন৷ দমকলকর্মীরা তড়িঘড়ি ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় থাকা ব্যাংক ম্যানেজারকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান৷ জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে বহি রাজ্য শিলচরের রেফার করলে ব্যাংক ম্যানেজারের অফিস স্টাফ তাকে শিলচরে নিয়ে যায়৷ বর্তমানের শিলচরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ব্যাংক ম্যানেজার আখা পুনির চিকিৎসা চলছে৷পাশাপাশি কদমতলা সিন্ডিকেট ব্যাংকের ম্যানেজারের তরফ থেকে ধর্মনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে দিয়েছে৷ পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে কদমতলা সিন্ডিকেট ব্যাংকের শাখার এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আখা পুনি বছর দেড়েক থেকে কদমতলা সিন্ডিকেট শাখায় কর্মরত এসিস্টেন্ট ম্যানেজারের দায়িত্বে রয়েছেন৷
তিনি বহিরাজ্য মনিপুরের বাসিন্দা হওয়াতে ধর্মনগরের নয়াপাড়ায় একটি বাসাতে ভাড়া থাকতেন৷ সেই বাসা থেকে প্রতিদিন কদম তলায় আসা-যাওয়া করতেন৷ কিন্তু ইদানীংকালে উনাদের সিন্ডিকেট ব্যাংকের একটি শাখা প্রেমতলা হওয়াতে উনাকে প্রেমতলা বদলি করা হয়৷ সেই সুবাদে আজ ১০ নভেম্বর উনি ধর্মনগরের নয়াপাড়ার ভাড়া বাড়ি ছেড়ে প্রেমতলা এলাকায় একটি বাড়িতে বাসা ভাড়া করে আসার কথা ছিলো৷ সেই কারণে নয়াপাড়া স্থিত বাড়ি মালিককে বাড়ি ছাড়ার কথা জানিয়ে দেন আঁকা পুনি, বলে জানা গেছে৷এমনকি গতকাল আখা পুনি নিজের ভাড়া বাড়িতে না থাকে উনার ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড দিপ চৌধুরির ধর্মনগর স্থিত ভাড়া বাড়িতে রাত কাটান৷
রাতে কিছুটা পার্টি সাটি হয়েছে বলেও জানা গেছে৷ কিন্তু রাতের পার্টি শেষ হওয়ার পর সিকিউরিটি গার্ড দীপ চৌধুরীও আখা পুনি ঘুমিয়ে পড়েন৷ কিন্তু গভীর রাতে ভাড়া বাড়ি থেকে কিভাবে সোনারুবাসা এলাকায় ব্যাঙ্ক ম্যানেজার আসলেন তা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে বিরাজমান৷ কিভাবে রাস্তার পাশে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে রইলেন তা নিয়ে দেখা দিয়েছে হাজারো প্রশ্ণ৷ যদিও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ব্যাঙ্ক ম্যানেজার আঁকা পুনি নাকি বলেছেন, একটি ট্রাক উনাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গিয়েছে৷তবে এত রাতে উনার ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড দিপ চৌধুরি ভাড়া বাড়ি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে কিভাবে আসলেন তা এখনও স্পষ্ট হয়নি৷
অপরদিকে দমকল কর্মীরা জানান, খবর পেয়ে সোনারুবাসা এলাকার রাস্তার পাশ থেকে ক্ষতবিক্ষত ভাবে পড়ে থাকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিন্ডিকেট ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান৷ উনাদের প্রাথমিক ধারণা মতে ওই ব্যক্তির ডান পায়ের হাঁটুর উপরে পায়ের হাড্ডি দু টুকরো হয়ে গিয়েছে৷
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, কদমতলা সিন্ডিকেট ব্যাংকের শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আখা পুনি মাঝরাতে কিভাবে ধর্মনগর নয়াপাড়া থেকে ধর্মনগর কদমতলা সড়কের মাঝামাঝি স্থানে আসলেন৷ কেনই বা ওনার ভাড়া বাড়িতে না থেকে উনার অফিসের সিকিউরিটি গার্ড দ্বীপ চৌধুরীর ভাড়া বাড়িতে রাত কাটালেন৷ এবং কিভাবে উনার শরিরকে ক্ষতবিক্ষত করে ডান পা দু টুকরো হয়ে গেল৷তা নিয়ে দেখা দিয়েছে হাজারো প্রশ্ণ?আসলে কি কোন গাড়ি রাতের আধারে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে ধাক্কা দিল, নাকি রাতের আধারে কোন দুসৃকতিকারীর দল পরিকল্পিতভাবে তাকে প্রাণে মারার জন্য ওই স্থানে নিয়ে আসলো তা পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে অভিমত নানা মহলের৷



















