ইমফল (মণিপুর), ১ জানুয়ারি (হি.স.) : উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও একটি রাজ্য মণিপুরে আজ ১ জানুয়ারি থেকে চালু হয়ে গেছে ইনার লাইন পারমিট (আইএলপি) ব্যবস্থা।
বুধবার হিন্দুস্থান সমাচার-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী নাংথমবাং বীরেন সিংহ জানান, গতকালই সরকারিভাবে স্টেট গ্যাজাটে এই ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আইএলপি ব্যবস্থা তাঁদের দীৰ্ঘদিনের দাবি ছিল। এবার তা কার্যকর হওয়ায় রাজ্যের ভূমিপুত্রদের সুরক্ষা প্ৰদান করবে। তিনি জানান, রাজ্যের সকল প্ৰবেশদ্বার সম্পূৰ্ণ তৈরি করা এবং রাজ্যে যাতে এই ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে প্ৰবর্তিত হয় তার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিৰ্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্ৰী নাংথমবাং বীরেন সিংহ বলেন, আইএলপি-র সম্প্ৰসারণ রাজ্যবাসীর ধারা প্ৰচেষ্টার ফসল। বলেন, ‘মণিপুরে আইএলপি সম্প্ৰসারণ করায় আমাদের কেন্দ্ৰীয় সরকারের, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সর্বোপরি দলীয় শীর্ষ নেতাদের ধন্যবাদ জানানো উচিত।’ জানান, তাঁর সরকার সিংজল, মোরে, মাও, জিরিবাম, জেসামি, বেইহাং, বীর টিকেন্দ্ৰজিৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সহ ৭ থেকে ৮টি স্থানকে প্ৰবেশদ্বার হিসেবে নিৰ্বাচন করেছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত অসুরক্ষিত কিছু কিছু অঞ্চলে থানা স্থাপন করার উদ্যোগও সরকার নিয়েছে।
মণিপুরে ভূমিপুত্র নাগরিকদের চিহ্নিত করার ক্ষেত্ৰে ভিত্তিবৰ্ষ কী হবে জানতে চাইলে মুখ্যমন্ত্রী সিংহ জানান, দেশজুড়ে এনআরসি প্ৰক্ৰিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ‘কেন্দ্ৰ সবুজ সংকেত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা এনআরসি প্ৰক্ৰিয়া শুরু করব।’ জানান মুখ্যমন্ত্রী নাংথমবাং বীরেন সিংহ। তিনি রাজ্যে চলমান নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, ইনার লাইন পারমিট ব্যবস্থা হওয়ায় মণিপুর এমনিতেই সুরক্ষিত হবে, এখানে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করার প্রশ্নই ওঠে না।
প্রসঙ্গত, মণিপুরে আইএলপি কাৰ্যকর হওয়ার বহু আগে থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন রাজ্য যথাক্ৰমে অরুণাচল প্ৰদেশ, নাগাল্যান্ড এবং মিজোরামে ইনার লাইন পারমিট ব্যবস্থা প্রচলিত আছে। গত ৯ ডিসেম্বর মণিপুরে ইনার লাইন পারমিট প্ৰবৰ্তন করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।



















