কলকাতা, ১১ ডিসেম্বর (হি. স.) : নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কে সামাজিক মাধ্যমে বিরোধীদের একহাত নিয়েছেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। তাঁর মন্তব্য রীতিমত ভাইরাল হয়ে উঠেছে ফেসবুকে।
তথাগতবাবু ফেসবুকে লিখেছেন, “বাড়ির মেয়েরা চোখের সামনে ধর্ষিতা হয়েছে, টেনে নিয়ে গেছে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে, পথের ভিখারি করে দিয়েছে। এই অবস্থায় হিন্দুরা পূর্ববাংলা ছেড়ে এদেশে এসেছেন। এখন এখানকার বাঙালি হিন্দুরাই তাদের নাগরিকত্ব দেবার প্রতিবাদ করছে, বলছে যে মুসলমানরা তাদের ঘরছাড়া করেছিল তাদেরও নাগরিকত্ব দিতে হবে ! উন্মাদ এবং আত্মঘাতী বাঙালি হিন্দু ছাড়া এরকম আচরণ কেউ করবে না।

বাঙালি হিন্দু আজ বিলুপ্তির পথে, অতীতের রবীন্দ্রনাথ-সুভাষচন্দ্র-বিবেকানন্দের স্থান শুধু ইতিহাসের পাতায়, পাঁঠার মতো তাঁদের নাম আউড়ে কোনো লাভ নেই । “ পোস্ট করার চার ঘন্টায় বুধবার পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত ২৮২টি লাইক, ৬০টি মন্তব্য এবং ৪৬টি শেয়ার হয়েছে এটি। অধিকাংশই সমর্থন করেছেন। বিরোধিতাও করেছেন অনেকে। পার্থপ্রতীম রায়চৌধুরী লিখেছেন, “আমি ১৯৪৭ সালের রিফুজি ফ্যামিলির ছেলে, আমি আমার পূর্বপুরুষদের শত্রুদের চিনি,এখন চিনতে পারছি আমার বর্তমান শত্রুদের।“ অভীক ব্যানার্জী লিখেছেন, “যারা নিজের ভাল বোঝে না। তাদের কি বলবেন?“ বিশ্বপ্রিয় রায়০চৌধুরী লিখেছেন, “একদম সঠিক কথা বলেছেন দাদা। পাগলও নিজের ভালো বোঝে। কিন্তু এই তথাকথিত সেকুর দল এটা বোঝে না।“ উৎপল দাস মহাপাত্র লিখেছেন, “বাস্তবì”
অরিন্দম মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, “কী অদ্ভুত যুক্তি, আগে শোনাতেন কমুনিষ্টরা আর এখন একযোগেই বলছেন তৃণমূলিরা। কমুনিষ্টরাও শেষ হয়ে গেছে, আসা করি তৃণমূলিরাও শেষ হয়ে যাবে। পিকে রায় লিখেছেন, “আত্মঘাতী বাঙ্গালী।“ পাপ্পু কুমার অঙ্কুর লিখেছেন, “একদম বাস্তব কথা বলেছেন দাদা।“ সুদীপ ভট্টাচার্য লিখেছেন, “বাঙালি হিন্দু পৃথিবীর সবচেয়ে বোকা জাত।“ পার্থপ্রতীম কুন্ডু লিখেছেন, “আজীবন ওই রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ কে ভাঙিয়ে খাওয়া বাঙালি হিন্দু হচ্ছে পিপুফিসু জাতি। পিঠ পুড়ছে ফিরে সুই। এরা জীবনেও আর ঘুরে দাঁড়াবে না । একদম সঠিক কথা লিখেছেন দাদা। “
তাপু তালুকদার লিখেছেন, “মাননীয় তথাগত রায়, আপনি মূল হিন্দু বাঙালির সমস্যা বুঝে অনেক বক্তব্য রাখেন। এখনকার কোন বিজেপির নেতৃত্ব আপনার মত ভাবনা। তরা আনেকেই ক্ষমতা ও অর্থের লোভে বিজেপি করছে। আপনি রাজ্যপালের পদ ছেড়ে আবার বিজেপির নেতৃত্বে আসুন। এখনো বাংলাদেশে দুই কোটি হিন্দু বাঙ্গালী নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। উওর পূর্বের রাজ্যগুলির কিছু সুবিধাবাদী লোক হিন্দু বাঙালির জন্যও তাদের সংস্কৃতির জন্য হুমকির মনে করেন। কিন্তু তারা নিজের ভাষায় পড়াশোনা করছে না। হয়ত ইংলিশ না হয় হিন্দিতে পড়াশোনা করছে। হিন্দি ডমিনেট হলে কোন অসুবিধা মনে করেনা, এমন মানসিকতার তারা, কারণ ছোটবেলা থেকে ওইভাবে বড় হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা একসময় হিন্দিতে বিলীন হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাও হয়তো হিন্দিতে লীন হয়ে যাবে। ভাষা যায় যাক, হিন্দু ধর্ম ও ধর্ম নিরপেক্ষতা যেন না যায়।”
সরব বিরোধীরাও। শুভদীপ অধিকারী লিখেছেন, “স্যার, এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নাম উল্লেখ না করাই সমীচীন। রবীন্দ্রনাথ কোনদিনই কি কাঁটাতারের সীমানায় বিশ্বাসী ছিলেন? এই রাজনীতির উর্ধে তিনি। বর্তমান সময়ে তিনি কি করতেন… মানে ক্যাব বা এন আর সি কে সমর্থন করতেন কি না সন্দেহ আছে। আপনি জ্ঞানী তাই আপনার কাছে জানতে চাইলাম? একটু দেখবেন আমি আবার ‘ দেশদ্রোহী ‘ হিসাবে স্বীকৃত না হই।” সঞ্জয় ঘোষ লিখেছেন, “আপনি রাজ্যপালের মত নিরপেক্ষ জায়গায় থেকে এমন আজে বাজে লেখেন কেন?“ অরবিন্দ ঘোষ লিখেছেন, “আপনার বাক্যবানে তীক্ষ্ম লেকচারগুলো আসামে, ত্রিপুরায় গিয়ে মারুন সাহস থাকলে।


















