News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • দশমী তিথিতে দেবী আবার পাড়ি দেন কৈলাসে
Image

দশমী তিথিতে দেবী আবার পাড়ি দেন কৈলাসে

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৯ অক্টোবর ৷৷ রীতি রেওয়াজ মেনে মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী পেরিয়ে দুর্গাপুজো পদার্পণ করল মহাদশমী তিথিতে৷ ‘দশমী’ মানেই ঘরের মেয়ে অর্থাৎ উমার এবার বিদায় বেলা৷ স্বভাবতই মন খারাপ আপামর বাঙালি থেকে শুরু করে সমস্ত মর্ত্যবাসীর৷ কারুরই মন চাইছে না মেয়েকে বিদায় দিতে৷ কিন্তু, নিয়মানুযায়ী উমাকে তো ফিরতেই হবে৷ তাই হাজারো মন খারাপের মাঝেও হাসিমুখে সিঁদুর খেলা ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে মহা আড়ম্বরে ঘরের মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে ব্যস্ত সকলে৷ বিজয়া দশমীর প্রকৃত তাৎপর্য হয়তো অনেকেরই অজানা৷ জেনে নেওয়া যাক এর প্রকৃত তাৎপর্য৷ দুর্গাপুজার অন্ত চিহ্ণিত হয় ‘বিজয়া দশমী’র মাধ্যমে৷

তাই ‘দশমী’ কথাটির মধ্যেই রয়েছে আবেগ, কষ্ট৷ ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গা স্বামীগৃহে ছেড়ে সপরিবারে এসেছিলেন পিতৃগৃহে৷ দশমী তিথিতে দেবী আবার পাড়ি দেন কৈলাসে৷ মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় এবং শুরু হয় আবার এক বছরের অপেক্ষার পালা৷ ‘দশমী’ কথাটির সাধারণ অর্থ খুবই সহজ৷ পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে বাপের বাড়ি ছেড়ে পাড়ি দেন স্বামীগৃহ কৈলাসের দিকে৷ সেই কারণেই এই তিথিকে ‘বিজয়া দশমী’ বলা হয়৷ কিন্তু দশমীকে বিজয়া বলা হয় কেন? তারণ কারণ খুঁজতে গেলে অনেক পৌরাইমক ব্যাখ্যা উঠে আসবে সামনে৷ পুরাণে মহিষাসুর বধ কাহিনীতে লেখা রয়েছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯দিন ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে তার বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন দুর্গা৷ নারী শক্তির এই জয়লাভকেই ‘বিজয়া’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে৷

আবার শ্রী চণ্ডির কাহিনী অনুসারে, দেবী আবির্ভূত হন আশ্বিন মাসের কৃষ্ণাচতুর্দশীতে৷ মহিষাসুর বধ করেন শুক্লা দশমীতে৷ তাই দশমীতে এই বিজয়কেই চিহ্ণিত করে বলা হয় ‘বিজয়া দশমী’৷ বিজয়া দশমীর দিনে উত্তর ও মধ্য ভারতে উদ্যাপিত হয় দশেরা৷ যদিও তার তাৎপর্য কিছুটা আলাদা৷ সংসৃকত শব্দ ‘দশহর’ থেকে ‘দশেরা’ শব্দটির উৎপত্তি৷ যা সূচিত করে দশানন রাবণের মৃত্যুকে৷ বাল্মিকী রচিত রামায়ণে কথিত, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতেই রাবন বধ করেছিলেন রাম৷ রাবণ বধের পর ৩০তম দিনে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেন সস্ত্রীক রামচন্দ্র৷

তাই এই দিনটিকে দশেরা বা দশহরা হিসেবে পালন করা হয় উত্তর ও মধ্য ভারতের কিছু জায়গায়৷ কিন্তু, মাইসোর দশেরা পালন করা হয় দেবী দুর্গার মহিষাসুরকে বধ করার স্মরণে৷ হাজারো পৌরাণিক ব্যাখ্যা৷ হাজারো পৌরাণিক মতামত৷ এসব কিছুকেই উপেক্ষা করে বাঙালি কিন্তু মেতে উঠে শুধুমাত্র দুর্গাপুজো নিয়ে৷ আজ এই পুজোর অবসান৷ প্রত্যেকের চোখে জল৷ আবারো এক বছরের অপেক্ষা৷ দেবী দুর্গার বিদায় দিনে বিষাদের সুরেই ‘বিজয় দশমী’ পালন করেন মর্ত্যবাসীরা৷ মেতে উঠেন সিঁদুর খেলায়, চলে একে অপরকে আলিঙন ও মিষ্টিমুখ৷ বিশ্বসংসারে ছড়িয়ে পড়ে ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা৷ ‘আসছে বছর আবার হবে’ এই আশা নিয়েই মহামায়াকে বিদায় জানান শতকোটি মর্ত্যবাসী৷

Releated Posts

রাজবাড়ীর অন্দরমহলে মঙ্গলচণ্ডী পূজা, ভক্তদের ভিড়ে মুখর মন্দির প্রাঙ্গণ

আগরতলা, ১মে : ২৮শে বৈশাখ উপলক্ষে আগরতলার রাজবাড়ীর অন্দরমহলে অনুষ্ঠিত হলো মঙ্গলচণ্ডী পূজা। সকাল থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে ভক্ত…

ByByTaniya Chakraborty May 12, 2026

এক মাস ধরে অন্ধকারে কালাপাড়া, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সংকটে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরা

শান্তিরবাজার, ১১ মে : দীর্ঘ এক মাস ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শান্তিরবাজার মহকুমার কালাপাড়া…

ByByTaniya Chakraborty May 11, 2026

বিশ্ব রেড ক্রস দিবসে রক্তদান শিবির, উপস্থিত রাজ্যপাল

আগরতলা, ৮ মেঃ “মানবতার মধ্যে ঐক্য” — এই মূল বার্তাকে সামনে রেখে শুক্রবার আগরতলা রেড ক্রস ভবনে যথাযোগ্য…

ByByReshmi Debnath May 8, 2026

তিন রাজ্যে বিজেপির জয়ে খোয়াইয়ে বিজয় মিছিল, উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের

আগরতলা, ৭ মে : তিন রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয়ে উচ্ছ্বাসে মাতল খোয়াই জেলা বিজেপি। বৃহস্পতিবার দুপুর প্রায় একটা…

ByByReshmi Debnath May 7, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top