নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৫ জুন ৷৷ রাজ্যে বিদ্যালয়গুলির প্রশ্ণপত্র এক ছাদের তলায় প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা দফতর৷ অভিজ্ঞ শিক্ষকরা সারা রাজ্যের বিদ্যালয়গুলির প্রশ্ণপত্র তৈরি করবেন৷ বুধবার এ-কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তাঁর কথায়, তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম এবং নবম ও একাদশ শ্রেণির প্রশ্ণপত্র আগরতলায় তৈরি হবে৷ সাথে যোগ করেন, একই সময়ে সারা রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে ষাণ্মাষিক এবং বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে৷ অন্যদিকে, রাজ্যের ৬৭টি বিদ্যালয়ে নার্সারি পাঠক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ চলতি শিক্ষাবর্ষের ১ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে ওইসব বিদ্যালয়গুলিতে নার্সারি পাঠক্রম৷

রাজ্যে সরকারি এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলিকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া চলছে৷ ফলে, নিত্যনতুন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গৃহীত হচ্ছে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার মান বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হলেও মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ-বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়৷ তাঁর কথায়, গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে গুণগত প্রশ্ণপত্রও তৈরি করতে হবে৷ তবেই ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনার মানের মূল্যায়ন করা যাবে৷ তিনি বলেন, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে প্রশ্ণপত্রের মান অত্যন্ত খারাপ৷ যেমন-খুশি প্রশ্ণপত্র তৈরি হচ্ছে বিদ্যালয়গুলিতে৷ তাতে ছাত্রছাত্রীদের সঠিক মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না৷
তাই, রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলির প্রশ্ণপত্র তৈরির প্রক্রিয়াটি এক ছাদের তলায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, একেক জায়গার একেক রকম মানের প্রশ্ণপত্র তৈরি হচ্ছে৷ এই প্রথা বন্ধ হওয়া উচিত৷ এর জন্য সেরা ২০ জন শিক্ষক বাছাই করা হবে৷ তাঁরাই প্রশ্ণপত্র তৈরি করবেন৷ শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, ওই ২০ জন শিক্ষককে বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হবে৷ যাতে তাঁরা সেখানে প্রশ্ণপত্র কীভাবে তৈরি হচ্ছে তার ধারণা সংগ্রহ করে সমৃদ্ধ হতে পারেন৷ তাতে তাঁদের ত্রিপুরায় প্রশ্ণপত্র তৈরিতে সহায়তা মিলবে৷
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই ২০ জন শিক্ষকদের পরিচালনার জন্য ত্রিপুরা সরকারের পদস্থ আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হবে৷ তাঁর পরিচলানায় আগরতলায় সারা ত্রিপুরার জন্য প্রশ্ণপত্র তৈরি হবে৷ তিনি আরও জানান, বছরে দুটি পরীক্ষার সূচিও একসাথে করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে৷ তাঁর কথায়, এখন দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পরীক্ষার সূচি আলাদা আলাদা হয়ে থাকে৷ নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ষাণ্মাষিক এবং বার্ষিক পরীক্ষার সূচি সমস্ত বিদ্যালয়ে একই থাকবে৷ তাতে প্রশ্ণপত্র বণ্টনে সুবিধা হবে বলে দাবি শিক্ষামন্ত্রীর৷
এদিকে, রাজ্যের ৬৭টি বিদ্যালয়ে নার্সারি পাঠক্রম চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ চলতি শিক্ষাবর্ষের ১ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে ওইসব বিদ্যালয়গুলিতে নার্সারি পাঠক্রম৷ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো রয়েছে, তাই ত্রিপুরার আট জেলায় মোট ৬৭টি জেবি, এসবি, হাই এবং হায়ার সেকেন্ডারি ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে নার্সারি চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তাঁর দাবি, প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ছাত্রছাত্রীদের মজবুত করা হলে ভবিষ্যতে তারা প্রকৃত শিক্ষিত হবেন৷
শিক্ষামন্ত্রী নাথ জানিয়েছেন, উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ৮টি, ঊনকোটি জেলায় ৪টি, ধলাই জেলায় ১০টি, খোয়াই জেলায় ৫টি, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ১১টি, সিপাহিজলা জেলায় ৯টি, গোমতি জেলায় ১০টি এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলায় ১০টি বিদ্যালয়ে নার্সারি চালু করা হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় মোট ৫৪টি ব্লক স্তরে, ৭টি পুর পরিষদ এবং ৬টি নগর পঞ্চায়েত এলাকায় ওই বিদ্যালয়গুলি রয়েছে ৷ তাছাড়া, যে-সব বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা সংখ্যায় প্রচুর, কেবলমাত্র ওই সব বিদ্যায়লয়গুলিকেই বাছাই করা হয়েছে ৷তিনি জানান, চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই নার্সারিতে ভরতি প্রক্রিয়া শুরু হবে ৷ ভরতি প্রক্রিয়া শেষে ১ জুলাই থেকে পঠনপাঠন শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷


















