চেন্নাই, ৭ আগস্ট (হি.স.): তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধি প্রয়াত | মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চেন্নাইয়ের কাবেরি
হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডিএমকে সুপ্রিমোর | মৃত্যুকালে তাঁর বয়েস হয়েছিল ৯৪ বছর | আজ সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে হাসপাতালের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিন প্রকাশ করে ডিএমকের স্রষ্টা করুণানিধির মৃত্যু দেওয়া হয়৷ তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি, উপ-রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও শোকগ্রস্ত দেশের রাজনৈতিক মহল। বুধবার করুণানিধির প্রয়ানের কারণে তামিলনাডুতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাতদিন পর্যন্ত শোক পালন করা হবে। আগামীকাল তামিলনাডু পৌছবেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনই চেন্নাই পৌছিয়ে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্ণাটকের রাজ্য সরকার বুধবার শোক দিবস পালন করবে। গোপালপুরমে বাড়িতে আজ শায়িত থাকবে করুণানিধির নশ্বর দেহ। মারিনা বিচে করুণানিধিকে সমাধিস্থ করার অনুমতি দিল না তামিলনাডু সরকার। এই বিষয়ে সমাধানের জন্য মাদ্রাজ হাই কোর্টে দ্বারস্থ হল ডিএমকে। করুণানিধির মৃত্যুতে দেশের রাজধানী দিল্লি সহ প্রতিটি রাজ্যের রাজধানীতে পতাকা অর্ধনিমিত থাকবে। রাষ্ট্রীয়শোক দিবস পালন করা হবে বুধবার। পূর্ণরাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে করুণানিধির।
অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল ডিএমকে | মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চেন্নাইয়ের কাবেরি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডিএমকে সুপ্রিমোর | মৃত্যুকালে তাঁর বয়েস হয়েছিল ৯৪ বছর | দীর্ঘদিন ধরে মূত্রনালির সংক্রমণে ভুগছিলেন ডিএমকে সুপ্রিমো এম করুণানিধি | চেন্নাইয়ের গোপালাপূরমে নিজস্ব বাসভবনেই তাঁর চিকিত্সা চলছিল| কিন্তু, গত ২৮ জুলাই গভীর রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে কাবেরী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়| আজ সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কলাইনার |
এর আগে মঙ্গলবার কাবেরী হাসপাতালের তরফ বিকেলে প্রকাশিত এক মেডিক্যাল বুলেটিনে বলা হয়েছে, \”করুণানিধির শারীরিক পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।\\” আরও জানানো হয়েছে যে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের সাপোর্ট দেওয়া সত্বেও করুণানিধির শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি ক্রমশ কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে। তাঁর অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। এরপর সন্ধে ৬টা ১০ মিনিটে একটি যুগের অবসান ঘটিয়ে পরলোকগমন করেন তামিলনাড়ু পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী |
এদিকে, এদিন করুণানিধির স্বাস্থ্যের অবনতির কথা ছড়িয়ে পড়তেই শোকার্ত হয়ে পড়েন ডিএমকে নেতা-কর্মী সহ করুণানিধির অনুগামীরা| হাসপাতালের বাইরে কয়েক হাজার অনুগামীদের ভিড়। পরিস্থতির মোকাবিলা করতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ।
এদিন সকালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে পালানিস্বামী বাসভবনে যান ডিএমকের কার্যকারী সভাপতি এম কে স্টেলীন, এম কে আলাগিরি এবং করুণানিধির মেয়ে কানিমোঝি। বৈঠকে মারিনা বিচে প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রসঙ্গত ওইখানেই বহু বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। পুলিশ আধিকারিক টি কে রাজেন্দ্র পুলিশবাহিনীকে যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন ধরেই মূত্রনালির সংক্রমণে জ্বরে ভুগছেন ডিএমকে সুপ্রিমো এম করুণানিধি| চেন্নাইয়ের গোপালাপূরমে নিজস্ব বাসভবনেই তাঁর চিকিত্সা চলছিল| কিন্তু, গত ২৭ জুলাই গভীর রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে কাবেরী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়| আপাতত কাবেরী হাসপাতালেই চিকিত্সাধীন ছিলেন করুণানিধি|
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, উপ-রাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
এদিন মাইক্র ব্লোগিং সাইট ট্যুইটারে শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ লিখেছেন, শ্রী এম করুণানিধি মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি দুঃখ পেয়েছি। ‘কলাইনার’ নামে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। উনি সুদৃঢ় পরম্পরা রেখে গিয়েছেন। যার সার্বজনিক জীবনে খুবই কম পাওয়া যায়। ওনার পরিবারবর্গ, লক্ষ অনুরাগীদের প্রতি আমি আমার সমবেদনা জানাই। নাগরিক জনজীবনে তিনি চূড়ামণি ছিলেন। তামিলনাডু ও ভারতের উন্নয়নের জন্য তাঁর অবদানের ধারে কাছে খুব কম মানুষই রয়েছে।
উল্লেখ্য, কাবেরী হাসপাতালে তিনি যখন ভর্তি ছিলেন তখন তামিলনাডুতে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন রাষ্ট্রপতি। এদিন তিনটি ভাষায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকবার্তা রাষ্ট্রপতির ট্যুইটারে লেখা হয়েছে।
করুণানিধির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন উপ-রাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু। ট্যুইটে তিনি লিখেছেন, এম করুণানিধির মৃত্যুতে আমি শোকাহত। দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় এবং দীর্ঘসময়ের রাজনীতিবিদ ছিলেন তিনি। তিনি নিজের মতো করে দাগ রেখে গিয়েছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ৫৬ বছর তিনি তামিলনাডুর বিধানসভার সদস্য ছিলেন। অন্য আর একটি ট্যুইটারে উপ-রাষ্ট্রপতি লিখেছেন, তিনি বহুমুখী প্রতিভার মানুষ ছিলেন। একজন দৃঢ়চেতা যোদ্ধা ছিলেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন তিনি। ১৩ বারের বিধায়ক ও পাঁচবারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থেকেই বলে দেয় জনগণের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ট্যুইট করে লিখেছেন, কলাইনার করুণানিধির মৃত্যুতে আমি দুঃখ পেয়েছি। দেশের বর্ষীয়ানতম নেতা ছিলেন তিনি। জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রাখা এক জন নেতাকে আমরা হারিয়েছি। তিনি একজন বহুমুখী চিন্তাবিদ, লেখক ছিলেন। সমাজের গরিব এবং প্রান্তিক মানুষের জন্য উৎসর্গকৃৎ ছিল তাঁর জীবন। জাতীয় বিকাশের সঙ্গে আঞ্চলিক চাহিদার জন্য লড়াই করেছিলেন তিনি। গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি তাঁর আস্থা ছিল।
লোকসভার অধ্যক্ষা সুমিত্রা মহাজন জানিয়েছেন, তিনি মহান নেতা ছিলেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষের জন্য তিনি কাজ করেছিলেন। গোটা দেশের জন্য বড় ক্ষতি হয়ে গেলো।
এছাড়াও দেশের রাজনৈতিক মহলও করুণানিধির মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করা হয়। কংগ্রেসের তরফ থেকে রণদীপ সুরজেওয়ালা শোকবার্তায় বলেছেন, এক মহান নেতাকে দেশ হারাল। গোটা ডিএমকে পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল। কংগ্রেস দল একজন গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুকে হারিয়েছে। এই শূন্যতা পূরণ করা।
জেডি(এস) নেতা তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া শোকবার্তায় জানিয়েছেন, তিনি আঞ্চলিক দলগুলিকে দিশা দেখিয়েছিলেন। তাঁর দলীয় কর্মীদের পাশাপাশি তাঁর শুভানুধ্যায়ীদের জন্য মুহূর্তটা খুবই দুঃখের। তিনি একজন প্রাজ্ঞ নেতা ও দেশনায়ক ছিলেন। তাঁর আত্মা শান্তি কামনা করি।
বিজেপি নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান জানিয়েছেন, করুণানিধির পরিবারের প্রতি সমবেদনা রইল। তিনি একজন বর্ষীয়ান ও সম্মানীয় নেতা ছিলেন। তামিলনাডুর রাজনীতিতে তাঁর বহু অবদান রয়েছে।
দক্ষিণী চিত্রতারকা রজনীকান্ত জানিয়েছেন, আজকের দিনটি আমার জীবনে অন্ধকারতম দিন। এইদিনটিকে আমি কোনও দিন ভুলবো না। আমি আমার কালাইনারকে হারিয়েছি তার আত্মার শান্তি কামনা করি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পন রাধাকৃষ্ণণ জানিয়েছেন, দেশ এবং তামিলনাডুর জন্য তাঁর মৃত্যুতে বহু ক্ষতি হয়ে গেলো। বিজেপি এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁর আত্মা শান্তি কামনা করি।
এছাড়াও শোকপ্রকাশ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রীরা।
অন্যদিকে করুণানিধি মৃত্যুতে বুধবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে তামিলনাডুতে। আগামী সাতদিন পর্যন্ত শোকদিবস পালন করা হবে। বুধবার তামিলনাডু পৌছবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইতিমধ্যেই এদিন পৌছিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্ণাটকের রাজ্য সরকার বুধবার শোক দিবস পালন করবে। গোপালপুরমে বাড়িতে আজ শায়িত করা হয়েছে করুণানিধির নশ্বর দেহ। এদিকে মারিনা বিচে করুণানিধিকে সমাধিস্থ করার অনুমতি দিল না তামিলনাডু সরকার।
তাঁর জন্য কাবেরী হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে ডিএমকে সমর্থকেরা। দলীয় কর্মীদের শান্ত এবং সংযত থাকার পরামর্শ ডিএমকে-র কার্যকারী সভাপতি এম কে স্ট্যালিন। এই বিষয়ে সমাধানের জন্য মাদ্রাজ হাই কোর্টে দ্বারস্থ হল ডিএমকে। এদিন রাত ১০টা ৩০মিনিট নাগাদ শুনানি হওয়ার কথা। এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ জানিয়েছেন, এই বিষয়ে তামিলনাডু সরকারের উচিত নয় রাজনীতি করা। সরকার এবং দলগুলির রাজনীতির উর্দ্ধে ওটা উচিত।


















