News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • ত্রিপুরাকে শ্রেষ্ঠ রাজ্যে রূপান্তর করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ঃ মুখ্যমন্ত্রী
Image

ত্রিপুরাকে শ্রেষ্ঠ রাজ্যে রূপান্তর করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ঃ মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ জুলাই৷৷ শিক্ষার মানোন্নয়নে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর৷ গুণগত শিক্ষা রাজ্যের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে৷ রাজ্যের উপজাতি অংশের ছেলে-মেয়েরাও যাতে তাদের লক্ষ্য স্থির করে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যেতে পারে সরকার সেই দিশাতেও কাজ করছে৷ উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের আর্থিক সহায়তায় পশ্চিমবঙ্গে বি এড এবং ডি এল এড কোর্স করার জন্য রাজ্যের নির্বাচিত উপজাতি অংশের ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে প্রজ্ঞা ভবনে আজ এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব এ কথাগুলি বলেন৷ তিনি বলেন, যে কোনও ব্যক্তিকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে৷ আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে অবিচল হয়ে এগিয়ে যেতে হবে৷ তবেই আসবে সফলতা৷ মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব ইতিবাচক মানসিকতাকে সূর্যের আলোর সঙ্গে তুলনা করেন৷ তিনি বলেন, এ রাজ্যে বড়মাত্রায় জনজাতি অংশের ভাই ও বোনেরা রয়েছে৷ তাদের সঠিক দিশায় নিয়ে যেতে পারলে ত্রিপুরাও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৪৯২ জন উপজাতি প্রার্থীর থেকে ৬৭২ জনকে কাউন্সিলিং করার পর ১৫০ জন প্রার্থীকে সরকারী খরচে বি এড এবং ডি এল এড কোর্সে বহিঃরাজ্যে পড়াশুনার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে৷ একজন শিক্ষক ইচ্ছা করলেই প্রধান শিক্ষককে সহযোগিতা করে সেই বিদ্যালয়ের পড়াশুনার উন্নয়ন ঘটাতে পারেন৷ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সমাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে রাাজ্যের পরিবর্তন সম্ভব৷ আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্ণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে অষ্টলক্ষ্মী বা ধনবান রাজ্যে রূপান্তর করা৷ রাজ্যগুলির সংসৃকতির বিকাশ ঘটানো৷ এখানকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা৷ সেই লক্ষ্যেই ত্রিপুরা সরকারের আবেদনে সারা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের বিমান বন্দরের নাম মহারাজ বীর বিক্রম কিশোর মানিক্যের নামে নামাকরণ করেছে৷ এ থেকে বোঝা যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী ত্রিপুরার প্রতি কতটা আন্তরিক৷ মুখ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধুমাত্র নিজের ঘরের সন্তানদেরই নয়, প্রতিবেশী ছাত্র-ছাত্রীদেরও পড়াশুনায় সম-উৎসাহ প্রদান করে তাদের সমাজ গঠনে ব্রতী হতে উদ্যোগী হতে হবে৷ তিনি বলেন, ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের পূর্ণ্যভূমী এই ত্রিপুরা রাজ্যকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্যে রূপান্তর করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ৷ এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন৷ উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাই উন্নত রাজ্য গঠনের সহায়ক৷
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ত্রিপুরা পূর্ণ্য রাজ্যে মর্যাদা পাওয়ার পর বর্তমান সরকার এই প্রথম ত্রিপুরাকে স্ব-নির্ভর রাজ্যে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে৷ তিনি বলেন, কোন রাজ্যকে স্ব-নির্বর করতে গেলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়নের দিকে বিশেষ জোর দিতে হয়৷ সরকার এই ক্ষেত্রগুলির উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে৷ তারই অঙ্গ হিসেবে এ বছর বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও ৫২৮ কোটি টাকা বেশী বরাদ্দ করেছে৷ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বিদ্যালয়স্তরে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে৷ বিদ্যালয় রয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার৷ সেখানে ৪২ হাজার শিক্ষকের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছে মাত্র ৯ হাজার৷ এজন্য রাজ্য সরকার গুণগত শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে৷ তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন একমাত্র দু-শিক্ষায় সকল রকম সমস্যার সমাধান হতে পারে৷ তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র পুঁথিগত শিক্ষাই যথেষ্ঠ নয়৷ প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীকেই সর্বক্ষেত্রে মেধাবী ও পারদর্শী হয়ে উঠতে হবে৷ তবেই ছাত্র-ছাত্রীরা ভবিষ্যৎ জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে৷ এ জন্য তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতেও আহ্বান জানান৷ অনুষ্ঠানে উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী মেবার কুমার জমাতিয়া বলেন, শিক্ষার সম্প্রসারণ ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করচে৷ বিগত ২৫ বছর রাজ্যে শিক্ষাকে নিয়ে রাজনীতি হয়েছে৷ এ জন্য শিক্ষার অবনতি হয়েছে৷ তাই ত্রিপুরা অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় গুণগত শিক্ষায় পিছিয়ে গেছে৷ এখন বর্তমান সরকার মানুষের কল্যাণের কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান৷
মত বিনিময় অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের প্রধান সচিব এল এইচ ডার্লং৷ ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অধিকর্তা হীরালাল দেববর্মা৷ উল্লেখ্য, এ বছর রাজ্যে ১৫০ জন উপজাতি অংশের ছেলে-মেয়েরা রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় বি এড এবং বি এল এড কোর্সে পশ্চিমবঙ্গের দু’টি কলেজ যথাক্রমে কাদম্বিনী মহিলা কলেজ এবং অ্যারিয়ান কলেজে পড়াশুনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে৷ ১৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে ৮৮ জন বি এড এবং ৬২ ডি এল এড-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে৷ এরমধ্যে ৮২ জন ছাত্রী এবং ৬৮ ছাত্র রয়েছে৷

Releated Posts

সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য চা গাছ কাটার অভিযোগ, চা বাগানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর: সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য জমি পরিষ্কারের নামে বোল্ডোজার দিয়ে চা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র…

ByByTaniya Chakraborty Sep 9, 2026

বিলোনিয়ায় ৬৫তম জাতীয় শিক্ষক দিবস উদযাপন, সম্মানিত ২৫ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ৫ সেপ্টেম্বর: বিদ্যালয় শিক্ষা পরিদর্শক, বিলোনিয়া এবং শিক্ষক দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শনিবার বিলোনিয়া কলেজ স্কয়ার সংলগ্ন…

ByByNews Desk Sep 5, 2026

অনুরাগ ধনকরের মৃত্যু নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর ‘হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে কংগ্রেসের মিছিল

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আগরতলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। পুলিশপ্রধান অনুরাগ ধনকরের মৃত্যুর…

ByByReshmi Debnath Sep 3, 2026

ডেপুটেশন ঘিরে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘাত, অধ্যক্ষকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ

কৈলাসহর, ২ সেপ্টেম্বর: ডেপুটেশন দেওয়াকে কেন্দ্র করে কৈলাসহর কলেজে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ত্রিপ্রা ইন্ডিজিনিয়াস…

ByByReshmi Debnath Sep 2, 2026
Scroll to Top