নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ মার্চ৷৷ ঝড়ে গাছ ভেঙে পড়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে৷ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী আগরতলা

শহরের অভয়নগরস্থিত পশু হাসপাতালের কাছে৷ মৃতার নাম আলোরাণী জমাতিয়া৷ তিনি ঐ এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন৷ বৃষ্টির সময় মেয়েকে গৃহশিক্ষকের বাড়িতে দিয়ে ফেরার সময় এই দূর্ঘটনায় পড়েন৷ গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে জি বি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকর ছায়া নেমে এসেছে৷
এদিকে, ভয়াবহ যান দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনজন৷ গুরুতর আহত হয়েছেন দুইজন৷ আহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছেন৷ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা নাগাদ কলমচৌড়া থানার অধীন বালুরচর এলাকায়৷ পুলিশ দূর্ঘটনার একটি মামলা নিয়েছে৷ চালক পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে৷
সংবাদে প্রকাশ, এদিন সকালে ইটভাট্টা শ্রমিকদের নিয়ে টিআর-০১-এস-১৮৭৫ নম্বরের একটি ম্যাক্সি ট্রাক বিশালগড় থেকে কলমচৌড়ার দিকে যাচ্ছিল৷ তখন বৃষ্টি হচ্ছিল৷ চালক বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন৷ বালুরচর এলাকায় পৌঁছতেই চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন৷ তাতে গাড়িটি রাস্তার উপর উল্টে যায়৷ তাতে গুরুতর আহত হন বুন্ধ নায়ে (২২), সানিকা লোহার (৩০), সোনাতন সোয়ানেসি (২০), ভূবন মোহালি (২৮) এবং দশার সোয়ানেসি (৫)৷ তাদের প্রত্যেকের বাড়ি ঝাড়খন্ডের রাচিতে৷
ভয়াবহ দূর্ঘটনার কবলে পড়ে তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে যায়৷ খবর দেওয়া হয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে৷ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে হাপানিয়াস্থিত ত্রিপুরা মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসা হয়৷ হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই বুদ্ধ, সানিকা এবং সোনাতন এর মৃত্যু হয়৷ বাকি দুইজনের চিকিৎসা চলছে৷ এদিকে, দূর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং দূর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি আটক করেছে৷ পুলিশ একটি মামলা নিয়েছে৷ জানা গিয়েছে, দূর্ঘটনার পরপরই চালক পালিয়ে গিয়েছে৷ দূর্ঘটনায় সহকর্মীদের মৃত্যুতে ইটভাট্টা শ্রমিকদের মধ্যে রীতিমতো শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে শত শত যানবাহন চলাচল করে৷ প্রতিটি গাড়িই মাত্রাতিরিক্ত গতিবেগে চলে৷ এই ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না৷ শুধু যাত্রীবাহী গাড়িই নয়৷ বিভিন্ন সময়ে পাচারের কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলিও ছুটে চলে বেপরোয়া ভাবে৷ তাতে বিপদের ঝঁুকি নিয়ে চলতে হয় পথচারীদের৷

